Bhutan Glacial Lake Burst

ভুটানে হিমবাহের হ্রদ ফেটে হড়পা বান, আলিপুরদুয়ারে বন্যার আশঙ্কা! নিরাপদ আশ্রয়ে ১২ হাজার বাসিন্দা

ভুটানে হিমবাহের হ্রদ ফেটে হড়পা বানের জেরে আলিপুরদুয়ারে বন্যার আশঙ্কা, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হল ১২ হাজার বাসিন্দাকে।

বানারহাটে চলছে মাইকিং।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ০১:২৭

ভুটানে হিমবাহের গলা জলে তৈরি হ্রদের পাড় ভেঙে নেমে এল বিপুল জলরাশি। হড়পা বানে বিপর্যস্ত পাহাড়ি এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ। এই ঘটনার জেরে উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আলিপুরদুয়ারের সঙ্কোশ নদীর জলস্তর বাড়তে থাকায় সতর্ক প্রশাসন। আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে প্রায় ১২ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভুটানের গাসা এলাকায় হিমবাহ গলা জল জমে একটি হ্রদ তৈরি হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আচমকাই সেই হ্রদের পাড় ভেঙে যায়। মুহূর্তের মধ্যে পাহাড়ি এলাকায় নেমে আসে বিপুল জলরাশি। জলের সঙ্গে নেমে আসে কাদা ও পাথর। এর জেরে ভুটানের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় অসমের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, শুক্রবার সকাল থেকে আলিপুরদুয়ারের সঙ্কোশ নদীর জলস্তর বাড়তে শুরু করেছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই নদীর জলস্তর প্রায় দু’ফুট বেড়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে সঙ্কোশের পাশাপাশি শিলিগুড়ি ও ডুয়ার্সের একাধিক নদীর জলস্তরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যদিও আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিত কুমার শা। সংবাদসংস্থা এএনআই-কে তিনি জানিয়েছেন, আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি।

তবে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। সঙ্কোশ নদীর পাড়ের বাসিন্দাদের সরিয়ে ত্রাণ শিবিরে রাখা হয়েছে। সেখানে পানীয় জল, শুকনো খাবার এবং শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে রয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)। পাশাপাশি রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF), সিভিল ডিফেন্স এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মীদেরও বিপজ্জনক এলাকাগুলিতে মোতায়েন করা হচ্ছে।

সঙ্কোশ নদীর জলস্তর ও স্রোতের গতিবিধির উপর নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। ভুটানের আধিকারিকদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে উত্তরবঙ্গের প্রশাসন। এখনও পর্যন্ত আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রাম এলাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর নেই। আগামী কয়েক ঘণ্টায় নদীর জলস্তরের পরিবর্তনের উপরই পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপ্রকৃতি নির্ভর করছে। অন্যদিকে, ভুটানে ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ হিসাব এখনও পাওয়া যায়নি।


Share