Rape

চলন্ত মহানন্দা এক্সপ্রেসে অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ! আলিপুরদুয়ারে গ্রেফতার অসমের যুবক

অভিযোগের ভিত্তিতে ৩০ বছরের ওই যুবককে আলিপুরদুয়ার জংশন থেকে পাকড়াও করা হয়। পরে তাঁকে আলিপুরদুয়ার আদালতে হাজির করানো হয়। তদন্তের স্বার্থে রেল পুলিশ ধৃতকে হেফাজতে নিয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার
  • শেষ আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২৬ ০৮:১১

দূরপাল্লার ট্রেনে অন্তঃসত্ত্বা এক যাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করল জিআরপি। ধৃতের বাড়ি অসমের রাঙ্গিয়ায়। শুক্রবার আলিপুরদুয়ার জংশন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগকারী ওই যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, সিকিম মহানন্দা এক্সপ্রেসের যাত্রী ছিলেন অভিযোগকারী মহিলা এবং অভিযুক্ত যুবক। শুক্রবার ট্রেনটি আলিপুরদুয়ারে পৌঁছোনোর সময় প্রতিবন্ধী কামরায় ওই অন্তঃসত্ত্বা যাত্রীকে যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পরই রেল পুলিশ তৎপর হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে ৩০ বছরের ওই যুবককে আলিপুরদুয়ার জংশন থেকে পাকড়াও করা হয়। পরে তাঁকে আলিপুরদুয়ার আদালতে হাজির করানো হয়। তদন্তের স্বার্থে রেল পুলিশ ধৃতকে হেফাজতে নিয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আদালত ও রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতার বাড়ি আলিপুরদুয়ার জেলাতেই। তাঁর বয়স ২০ বছর। বৃহস্পতিবার তিনি দিল্লি থেকে ট্রেনে বাড়ি ফিরছিলেন। ওই তরুণী ট্রেনের প্রতিবন্ধী কামরায় একাই ছিলেন। হাসিমারা স্টেশনে ট্রেন থামার পরও কামরায় আর কোনও যাত্রী ছিলেন না।

অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিলিগুড়ি জংশন থেকে ওই ট্রেনে ওঠেন। হাসিমারা স্টেশন ছেড়ে ট্রেনটি গভীর জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে গারোপাড়ার কাছাকাছি পৌঁছোনোর সময় তিনি ওই তরুণীকে জোর করে টেনে শৌচাগারের কাছে নিয়ে যান। সেখানেই ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। কামরায় অন্য কোনও যাত্রী না থাকায় তরুণীর চিৎকারও সেই সময় কারও কানে পৌঁছোয়নি। পরে এক রেলকর্মী তরুণীর চিৎকার শুনতে পান। তিনি বিষয়টি আলিপুরদুয়ার জিআরপিকে জানান। তবে হাসিমারা থেকে আলিপুরদুয়ার জংশনের মধ্যে ট্রেনটির আর কোনও স্টপেজ না থাকায় মাঝপথে রেল পুলিশ কামরায় উঠতে পারেনি। ট্রেনটি সরাসরি আলিপুরদুয়ার জংশনে পৌঁছোনোর পর রেল পুলিশ প্রতিবন্ধী কামরায় ওঠে। সেখান থেকে তরুণীকে উদ্ধার করার পাশাপাশি অভিযুক্তকেও গ্রেফতার করা হয়। পরে নির্যাতিতাকে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ওই তরুণী প্রায় দু’মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

অভিযোগকারী মহিলার বয়ান অনুযায়ী, তিনি দিল্লিতে তাঁর দিদির বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই মহানন্দা এক্সপ্রেসে একাই বাড়ি ফিরছিলেন। তাঁর বাড়িতে স্বামী এবং শাশুড়ি রয়েছেন। স্বামী পেশায় কৃষক। তিনি নিজে গৃহস্থালির কাজ সামলান।

আলিপুরদুয়ারে চলন্ত ট্রেনে এই ঘটনার অভিযোগের পর ফের প্রশ্নের মুখে পড়েছে যাত্রীদের, বিশেষ করে মহিলা যাত্রীদের নিরাপত্তা। চলন্ত ট্রেনে একজন মহিলা যাত্রীর নিরাপত্তা কতটা সুনিশ্চিত, তা নিয়েই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর রেলযাত্রীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে।


Share