Tiger Attack

কাঁচির আঘাতে কুপোকাত চিতা! প্রাণ বাঁচাতে লড়াই, জখম হয়েও শ্বাপদকে পিছু হটালেন বৃদ্ধা

ধান কাটতে গিয়ে আচমকাই চিতাবাঘের মুখোমুখি ৬০ বছরের বাসন্তী রায়। প্রাণ বাঁচাতে হাতে থাকা কাঁচি দিয়েই হিংস্র প্রাণীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

আহত বাসন্তী রায়
নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি
  • শেষ আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৬ ১২:৫৯

ধান কাটার কাঁচিই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল প্রাণ বাঁচানোর অস্ত্র! একদিকে হিংস্র চিতাবাঘ। অন্যদিকে নিরস্ত্র ৬০ বছরের বৃদ্ধা। পালানোর পথ নেই। সামনে সাক্ষাৎ মৃত্যু। কিন্তু ভয় পেয়ে হার মানেননি বাসন্তী রায়। কাঁচির আঘাতে কুপোকাত চিতা। আক্রমণ সামলে হাতে থাকা কাঁচি দিয়েই তিনি পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। কয়েক মিনিট অসম লড়াই চলে। শেষ পর্যন্ত কাঁচির আঘাত সহ্য করতে না পেরে জঙ্গলে পালায় চিতাবাঘ। তবে এই লড়াইয়ে বাসন্তী কিছুটা রক্তাক্ত হয়েছেন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে এই সাহসিকতার ঘটনাটি ঘটেছে ।

ঘটনাটি ধূপগুড়ি ব্লকের মরাঘাট রেঞ্জের ঝাড়আলতা-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের গারঘুটা এলাকার। বাসন্তী রায় সেখানেরই বাসিন্দা। তাঁর বাড়ির কাছেই খুট্টিমারি জঙ্গল। প্রতিদিনের মতোই রবিবারও জীবিকার তাগিদে তিনি জমিতে ধান কাটতে গিয়েছিলেন। কিন্তু মাঠের নিস্তব্ধ পরিবেশে যে এমন বিপদ অপেক্ষা করছে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি। আচমকাই তাঁর সামনে এসে একটি চিতাবাঘ হাজির হয়। তাঁর ওপর মুহূর্তের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে পালানোর সুযোগটুকুও পাননি বৃদ্ধা। আক্রমণের জেরে তিনি মাটিতে পড়ে যান। শেষ পর্যন্ত হাতে থাকা ধান কাটার কাঁচিই আত্মরক্ষার একমাত্র অস্ত্র হয়ে ওঠে।

তবে বিপদের মুখেও বাসন্তী সাহস হারাননি। হাতে থাকা ধান কাটার কাঁচি দিয়েই চিতাবাঘকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। বাঘটিকে পাল্টা আঘাত করতে থাকেন। বেশ কয়েক মিনিট লড়াই চলার পর চিতাবাঘটি বৃদ্ধার প্রতিরোধের মুখে পিছু হটে। কাঁচির আঘাতে জখম হয়ে সে জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায়।

এদিকে, বাসন্তীর চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিতাবাঘের থাবা ও কামড়ে তাঁর বুক, কোমর এবং পায়ে ক্ষত তৈরি হয়েছে। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান।

ঘটনার কথা মরাঘাট রেঞ্জের সোনাখালি বিট অফিসে জানান বাসন্তীর প্রতিবেশীরা। খবর পেয়ে বন দফতরের কর্মীরাও হাসপাতালে গিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে বাসন্তী বলেন, জমিতে ধান কাটার সময় আচমকাই চিতাবাঘটি তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কামড়ে ধরায় বুকে আঘাত লাগে। নখের আঁচড়ে কোমর ও পায়েও ক্ষত হয়। রক্তপাত শুরু হলে প্রথমে কী করবেন বুঝতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত আত্মরক্ষার তাগিদে হাতে থাকা কাঁচি দিয়েই চিতাবাঘের উপর পাল্টা আঘাত করেন। কিছুক্ষণ পর সেটি তাঁকে ছেড়ে জঙ্গলে পালিয়ে যায়।


Share