Pahalgram Attack

পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি, এনআইএয়ের জালে কলকাতার বাসিন্দা রিয়াজ, এন্টালিতে জুতোর ব‍্যবসা ছিল অভিযুক্তের

ধৃত জাফর রিয়াজ ওরফে রিজভির বিরুদ্ধে সরকারি তথ্য গোপনীয়তা, ইউএপিএ-র একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে বলে এনআইএ জানিয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২২ মে ২০২৬ ০১:৩১

পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি অভিযোগে এন্টালির এক ব‍্যবসায়ীকে গ্রেফতার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএ। ধৃতের নাম জাফর রিয়াজ ওরফে রিজভি। জাফরের এক সময় জুতোর ব‍্যবসা ছিল বলে জানা গিয়েছে। পহেলগাঁওয়ে ইসলামিক জঙ্গি হামলার সঙ্গেও এই জাফরের যোগ রয়েছে বলে এনআইএ জানিয়েছে।

সূত্রের খবর, জাফররের দু’টি জুতো তৈরির কারখানা ছিল। ২০০৫ সালে পাকিস্তানের লাহৌরের বাসিন্দা রাবিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয়। পারিবারিক সূত্রেই দু’জনের পরিচয়। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সময়ে এই রিজভি এন্টালিতে বেশিরভাগ সময় কাটায়। ধৃত জাফর রিজভি ২০১২ সাল পর্যন্ত এন্টালিতে থাকত। পরে একটি দুর্ঘটনা হয়। শারীরিক কারণে ব‍্যবসা বন্ধ করে দেয় সে। আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হয়। ওই সময় লাহৌরে থাকা শ্বশুরবাড়ির লোকজনেরা পাকিস্তানে চলে আসার জন্য প্রস্তাব দেয়। ওই বছরই স্ত্রী রাবিয়াকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয়। পরে পর্যটন ভিসা নিয়ে লাহৌরে চলে যায়। তবে ২০০৫ সালে রিজভি একাধিক বার পাকিস্তানে গিয়েছে বলেও এনআইএ জানিয়েছে। জাফরের সন্তানেরাও পাকিস্তানের বাসিন্দা বলেই জানা গিয়েছে।

এনআইএ সূত্রের খবর, লাহৌরে বিদেশি নথি নথিভুক্তকরণ দফতরে আওয়াইশ নামে এক পাকিস্তানি আধিকারিকের সঙ্গে পরিচয় হয়। এই আওয়াইশ নামে ব‍্যক্তির মাধ‍্যমে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। আইএসআইয়ের নির্দেশেই চিকিৎসা করানোর নামে ভারতে আসত। এখানে এসে বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার ছবি এবং তথ‍্য পাকিস্তানের হ‍্যান্ডলারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া শুরু করে।

জানা গিয়েছে, গত ২০২২ সালে পঞ্জাবের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপের কাছে এই জাফর রিজভি এবং তার সঙ্গী বিহারের বাসিন্দা মধুবনি মহম্মদ সামসাদ গ্রেফতার হয়। অমৃতসর স্টেশনের পাশে সামসাদের লেবুজলের দোকান ছিল। সামসাদকে সঙ্গে নিয়েই পঞ্জাবের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার ছবি তুলে পাঠাতে থাকে পাকিস্তানে।

পরে সেই মামলায় জামিন মেলে এই জাফর রিজভির। পহেলগাঁমে ইসলামিক জঙ্গি হামলার পরে আবার এই জাফর রিজভির নাম উঠে আসে। এই মামলার তদন্তে নেমে পাকিস্তানের গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে সিআরপিএফের জওয়ান মতিরাম জাটকে গ্রেফতার করেছিল। মতিরাম ঘটনার দিন পহেলগাঁমে কর্মরত ছিলেন।

মতিরামকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই রিজভির নাম উঠে আসে। তার পর থেকেই রিজভির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। রিজভির বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি করে এনআইএ। অবশেষে কলকাতার উপকণ্ঠেই এই রিজভির খোঁজ মেলে। তাকে গ্রেফতার করে এনআইএয়ের আধিকারিকেরা দিল্লিতে নিয়ে গিয়েছে। তৃণমূল জমানায় ফের এরাজ‍্যে এসেই গা ঢাকা দিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। পাকিস্তানের চরবৃত্তির অভিযোগে ধৃত জাফর রিয়াজ ওরফে রিজভি কলকাতা-সহ রাজ‍্যে কোনও নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত করে দেখছে এনআইএয়ের গোয়েন্দারা।

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, রিজভিকে পাকিস্তানের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভারতে চরবৃত্তির কাজে লাগানো হয়েছিল। পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এবং ইসলামিক সন্ত্রাস পরিচালনায় সাহায্য করেছে অভিযুক্ত জাফর রিয়াজ ওরফে রিজভি। এনআইএ জানিয়েছে, ভারতীয় টেলিকম মোবাইল নম্বরের ওটিপি এক পাকিস্তানি গোয়েন্দা আধিকারিককে সরবরাহ করেছিল। যাতে ওই আধিকারিক হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করতে পারে। অভিযোগ, ওই পাকিস্তানি গোয়েন্দা আধিকারিক এই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে মামলার আরেক অভিযুক্ত মোতিরাম জাটের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখত। মতিরাম জাটও গোপন নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য ওই আধিকারিকের কাছে পৌঁছে দিত বলে অভিযোগ।

ধৃত জাফর রিয়াজ ওরফে রিজভির বিরুদ্ধে সরকারি তথ্য গোপনীয়তা, ইউএপিএ-র একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে বলে এনআইএ জানিয়েছে।


Share