Youth Congress Suspension Row

দিল্লির রামলীলা ময়দানে কর্মসূচিতে অনুপস্থিতি, সাসপেন্ড ৬ জেলা সভাপতি-সহ যুব কংগ্রেসের ২৬ নেতা! সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি রোহন মিত্রের

দিল্লির রামলীলা ময়দানে কর্মসূচিতে অনুপস্থিতির জেরে ছয় জেলা সভাপতি-সহ ২৬ যুব কংগ্রেস নেতাকে সাসপেন্ড, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আর্জি রোহন মিত্রের।

(বাঁ দিক থেকে) প্রকাশ যোশী এবং শুভঙ্কর সরকার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ০৬:৫৯

দিল্লির রামলীলা ময়দানে আয়োজিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ না দেওয়ায় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ যুব কংগ্রেসের ২৬ জন পদাধিকারীর বিরুদ্ধে কড়া সাংগঠনিক পদক্ষেপ। সাসপেন্ড করা হয়েছে ছয় জেলার যুব কংগ্রেস সভাপতি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে। ৩ নভেম্বর জারি করা নির্দেশে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তাঁদের সাসপেনশনের কথা জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। সাসপেন্ড হওয়া নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতা রোহন মিত্র।

যুব কংগ্রেসের প্রকাশিত নির্দেশ অনুযায়ী, দিল্লির আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট পদাধিকারীদের অনুপস্থিতিকে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করেছে সর্বভারতীয় নেতৃত্ব। সাসপেন্ড হওয়া ছয় জেলা সভাপতি হলেন কোচবিহারের সুকমল বর্মন, জলপাইগুড়ির নবীনেন্দু মৌলিক, উত্তর দিনাজপুরের মামুন রেজা, পূর্ব বর্ধমানের মিঠুন সরকার, উত্তর কলকাতার অভিষেক গুপ্ত এবং দক্ষিণ কলকাতার ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল।

এছাড়াও সাসপেন্ড হয়েছেন প্রদেশ যুব কংগ্রেসের সহ-সভাপতি বাবুল এসকে, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল মল্লিক, কুণালকান্তি চৌধুরী, সুভার্থী চক্রবর্তী, তারিক আনোয়ার শেখ, সাহিল নওয়াজ, পারিক্ষিত নাগ, সঞ্জয় খান, সাজিদ মোল্লা, মৌ মণ্ডল, তারিক আনোয়ার, পুরব কুমার বসু, অর্পণ সিনহা, বাদশা আলমগির, অরিজিৎ চক্রবর্তী, রেজাউল চৌধুরী ও পরওয়াজ খান। তালিকায় রয়েছেন সাধারণ সম্পাদক বাপিরুল মণ্ডল এবং সম্পাদক সাইনুর রেবা, দাবিশ ইস্তিয়াক ও চন্দ্রশেখর গঙ্গোপাধ্যায়ও। নির্দেশে স্বাক্ষর করেছেন জাতীয় সম্পাদক তথা বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত এহসান আহমেদ খান এবং প্রদেশ সভাপতি সৌরভ প্রসাদ।

এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে রোহন মিত্রের দাবি, অনুপস্থিতির পিছনে থাকা বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই একযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বহু কর্মী আট-দশ বছর ধরে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সংগঠনের জন্য কাজ করেছেন। অথচ তাঁদের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত। ৩৫ বছর বয়সের পর যুব কংগ্রেসে সক্রিয় থাকার ক্ষেত্রেও বয়সের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

রোহনের যুক্তি, পুজো ও দীপাবলির মরশুমে কলকাতা থেকে দিল্লির ট্রেনের টিকিট পাওয়া কঠিন ছিল। বিমানে যাতায়াতে মাথাপিছু প্রায় ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। মাত্র দু-তিন দিনের মধ্যে সাধারণ পরিবারের কর্মীদের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা কার্যত অসম্ভব। অন্যের আর্থিক সাহায্য নিয়ে দিল্লি যাওয়ার ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে প্রতিদানের চাপ তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

পাশাপাশি, নতুন যোগ দেওয়া কর্মী এবং দীর্ঘদিন ধরে দলের দুর্দিনে লড়াই করা পুরনো কর্মীদের একই মাপকাঠিতে বিচার করা উচিত কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন রোহন। সর্বভারতীয় যুব কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছে তাঁর আবেদন, সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে পুরনো কর্মীদের মনোবল অটুট রাখা হোক। ফলে বাংলার যুব কংগ্রেসে এখন সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বনাম কর্মীদের বাস্তব সমস্যার বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল।


Share