Untrustworthy Index

বিশ্বের সবচেয়ে আস্থাভাজন পেশা চিকিৎসক, বিশ্বাসযোগ্যতার তালিকায় শীর্ষে বিজ্ঞানী ও শিক্ষকও, রাজনীতিকদের ওপর আস্থা মাত্র ১৩ শতাংশ, বলছে Ipsos সমীক্ষা

Ipsos-এর সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, গড়ে ৫৮ শতাংশ মানুষ চিকিৎসকদের বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন ৫৭ শতাংশ মানুষ। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন শিক্ষকেরা।

Ipsos এর সমীক্ষায় এটাই উঠে এসেছে।
ইন্দ্রজিৎ মল্লিক, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:০৭

বিশ্বের মানুষ চিকিৎসকদের সবচেয়ে বেশি মানুষ বিশ্বাস করে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন পেশার মানুষের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ফারাকের ছবি উঠে এল Ipsos-এর ২০২৬ সালের ‘Global Trustworthiness Index’-এ। ওই সংস্থাটি ৩১টি দেশে সমীক্ষা করেছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্বের ৩১টি দেশে চিকিৎসকরাই সবচেয়ে বেশি আস্থাভাজন। অন্য দিকে, রাজনীতিবিদের প্রতি মাত্র ১৩ শতাংশ মানুষের আস্থা রয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর Ipsos-এর এই ধরনের সমীক্ষার সপ্তম সংস্করণ প্রকাশিত করেছে।

Ipsos-এর সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, গড়ে ৫৮ শতাংশ মানুষ চিকিৎসকদের বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন ৫৭ শতাংশ মানুষ। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন শিক্ষকেরা। ৫৩ শতাংশ মানুষের আস্থার শিক্ষকদের ওপর আস্থা রয়েছে। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভারত। এই দেশে ৬১ শতাংশ মানুষ চিকিৎসকদের ওপরে আস্থা রাখেন। Ipsos জানিয়েছে, সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩১টি দেশের মধ্যে মাত্র চারটি দেশ বাদে সর্বত্র চিকিৎসক, বিজ্ঞানী ও শিক্ষকতাই সবচেয়ে বেশি আস্থাভাজন তিনটি পেশা।

অন্য দিকে, সবচেয়ে কম আস্থার তালিকায় রয়েছে রাজনীতিক, নেটপ্রভারী (সোশ্যালমিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার) এবং বিজ্ঞাপন সংস্থার কর্তারা। ৩১টি দেশের গড় হিসাবে মাত্র ১৩ শতাংশ মানুষ রাজনীতিবিদদের বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেছেন। নেটপ্রভারী বা সোশ্যালমিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের ক্ষেত্রে এই হার ১৪ শতাংশ এবং বিজ্ঞাপন সংস্থার কর্তাদের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ।

২০২৬ সালের সূচকে প্রথম বারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI চ্যাটবট এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। AI চ্যাটবটকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করেন মাত্র ২৩ শতাংশ উত্তরদাতা। বিপরীতে ৪০ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা AI চ্যাটবটকে বিশ্বাস করেন না। অন্যদিকে, প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের ৩১ শতাংশ বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেছেন। ২৫ শতাংশ তাঁদের অবিশ্বাস্য বলে মনে করেছেন।

দেশভিত্তিক সামগ্রিক আস্থার সূচকে এশিয়ার দেশগুলির অবস্থান তুলনামূলক ভাবে উঁচু। Ipsos-এর তৈরি ‘Global Trustworthiness Country Index-এ ৩১টি দেশের মধ্যে ভারতকে সবচেয়ে বেশি আস্থাশীল দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভারতের পর রয়েছে মালয়েশিয়া, তাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া।

তবে এই সূচক কোনও নির্দিষ্ট পেশা বা গোষ্ঠীর প্রতি একটি দেশের মানুষের আস্থার একক পরিমাপ নয়। বিভিন্ন পেশার ক্ষেত্রে ‘বিশ্বাসযোগ্য’ এবং ‘অবিশ্বাসযোগ্য’ উত্তরদাতাদের অনুপাতের ভিত্তিতে দেশভিত্তিক সূচকটি তৈরি করা হয়েছে বলে Ipsos জানিয়েছে। ফলে ভারতের সামগ্রিক ভাবে প্রথম অবস্থানকে সরাসরি রাজনীতিবিদ বা অন্য কোনও নির্দিষ্ট পেশার প্রতি আস্থার সূচক হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না।

Ipsos-এর এই সমীক্ষা একই সঙ্গে দেখাচ্ছে, পেশাগত বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নে চিকিৎসা, বিজ্ঞান ও শিক্ষার মতো ক্ষেত্রগুলি এখনও আন্তর্জাতিক ভাবে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। যখন রাজনীতি ও নতুন ডিজিটাল ক্ষেত্রগুলিতে মানুষের আস্থার মাত্রা অনেক কম।


Share