Suvendu Adhikari

কলকাতায় আসছে ওয়াটার মেট্রো, তাজপুরের বদলে দাদনপাত্রবারে গভীর সমুদ্রবন্দর, জলপথ উন্নয়নে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

গঙ্গা ও তার শাখানদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থায় ওয়াটার মেট্রো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬ ১০:১৯

নবান্নে কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের সঙ্গে বৈঠকের পর রাজ্যের জলপথ পরিবহণ ও বন্দর পরিকাঠামো নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, দেশের ১৮তম শহর হিসেবে কলকাতায় চালু হতে চলেছে অত্যাধুনিক ‘ওয়াটার মেট্রো’ পরিষেবা। পাশাপাশি তাজপুর গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের পরিবর্তে দাদনপাত্রবারে নতুন বন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও সামনে আনেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, জলপথকে আরও কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহণ হিসেবে গড়ে তুলতেই কলকাতায় ওয়াটার মেট্রো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কেরলের কোচিতে সফলভাবে চালু হওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের একাধিক শহরে এই পরিষেবা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হচ্ছে কলকাতাও। গঙ্গা ও তার শাখানদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থায় ওয়াটার মেট্রো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছে প্রশাসন। এর ফলে শহরের যানজট কমার পাশাপাশি বিকল্প গণপরিবহণ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।

অন্য দিকে, তাজপুর গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত জমির অভাব এবং জমি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তাজপুরে পরিকল্পিত বন্দর প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে প্রকল্পটি বাতিল না করে বিকল্প জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, তাজপুর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে দাদনপাত্রবার এলাকায় প্রায় এক হাজার ৭০০ একর জমির উপর নতুন গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলা হবে। ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং দ্রুত প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এর পাশাপাশি রাজ্যের জলপথ ও বন্দর ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ করে তুলতে জাহাজ চলাচল ও বন্দর সংক্রান্ত কাজের জন্য পৃথক প্রশাসনিক দফতর গঠনের ভাবনাও চলছে। সরকারের মতে, বন্দর, জলপথ পরিবহণ, মালবাহী নৌপরিষেবা এবং সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ আলাদা দফতরের মাধ্যমে পরিচালিত হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন আরও দ্রুত হবে।

ওয়াটার মেট্রো চালু করা থেকে শুরু করে নতুন গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ একাধিক বৃহৎ প্রকল্পের ঘোষণার মাধ্যমে রাজ্যের জলপথভিত্তিক পরিকাঠামো উন্নয়নের নতুন রূপরেখা তুলে ধরল নবান্ন। এখন দেখার, এই পরিকল্পনাগুলি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে কতটা পৌঁছোয়।


Share