Municipal Corporation

নভেম্বরে হবে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন, ওয়ার্ডে সংখ্যা বেড়ে হতে চলেছে ২০০, জানালেন পুর প্রশাসক

নির্বাচনে ভরাডুবির পরে কলকাতা পুরসভার বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মেয়াদ শেষের আগেই পদত্যাগ করেছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। বোর্ড তৈরি করার জন্য সময় দিলেও তৃণমূল না তৈরি করতে না পারায় পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের নির্দেশ সেখানে প্রশাসক বসানো হয়েছে।

কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পান্ডে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬ ০৭:১৮

আসন্ন পুরসভার নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু করে দিল কলকাতা পুরসভা। কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পান্ডে জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে আসন বিন‍্যাসের কাজ হবে। তাঁর মতে, কলকাতার ওয়ার্ডগুলিতে ভোটারের বিন‍্যাস সমান নেই। তাই এই তৃণমূলস্তরে সার্ভে হবে। তার পরে চুড়ান্ত রিপোর্ট দেওয়া হবে। বর্তমানে কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ড রয়েছে। তা বেড়ে ২০০টি হতে চলেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার পুরসভার সাংবাদিক সম্মেলন করেন কলকাতার পুর প্রশাসক স্মিতা পান্ডে। তিনি জানান, কলকাতার কোনও ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যা ১০ হাজার আবার কোনও ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যা ৮৫ হাজার। বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভোটারের বিন‍্যাসে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। এই পার্থক্য সমান করতে গেলে আসন বিন্যাস করতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ১৬ থেকে ১৮ হাজার ভোটার রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। 

পুর প্রশাসক জানান, এই বিন‍্যস নির্ধারণ করতে জন‍্য দু’টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি কমিটি পুরসভা স্তরে কাজ করবে। একটি কমিটি বোরোস্তরে কাজ করবে। বোরোস্তরে যে কমিটি সার্ভে করবে তারাই বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবেন। বর্তমানে ১৫টি বোরো রয়েছে। এই বোরোর সংখ্যা বাড়ছে না। কলকাতা পুরসভার সীমানাও বাড়ছে না। সীমানার মধ্যে থেকেই এই বিন্যাস তৈরি করা হচ্ছে। পুর প্রশাসক স্মিতা জানিয়েছেন, কলকাতা পুরসভার ১ম তফসিল অনুযায়ী বোরোর সংখ্যা বাড়ানো যায় না। তাই ওয়ার্ডের সংখ‍্যাই বাড়বে।

আগামী ৩১ জুলাই খসড়া বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন স্মিতা পান্ডে। তার পরেই ওয়ার্ডের পুনঃবিন‍্যাস নিয়ে আপত্তির জানানো যাবে। বর্তমান সীমানা, সর্বশেষ জনসংখ্যা, ভৌগলিক অবস্থান এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রশাসনিক তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে খতিয়ে দেখবে তারা। তা যাচাই করার পর, এই কমিটিগুলি তাদের নিজস্ব সুপারিশ ও মতামত সংবলিত একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করবে। পরবর্তীকালে বরো স্তরের এই সমস্ত রিপোর্ট ও সুপারিশ পাঠানো হবে মূল কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে।

নির্বাচনে ভরাডুবির পরে কলকাতা পুরসভার বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মেয়াদ শেষের আগেই পদত্যাগ করেছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। বোর্ড তৈরি করার জন্য সময় দিলেও তৃণমূল না তৈরি করতে না পারায় পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের নির্দেশ সেখানে প্রশাসক বসানো হয়েছে। ফলে ছ’মাসের মধ্যেই নির্বাচন করাতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতা পুরসভার একটি অনুষ্ঠানে এসে আগামী নভেম্বর মাসে নির্বাচন হওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেই মতো নির্বাচনের আগে ভোটারের ভিত্তিতে ওয়ার্ডের বিন‍্যাসের কাজ শুরু করে দিল কলকাতা পুরসভা।


Share