Nipa Virus

রাজ‍্যে নিপা ভাইরাসের হদিশ, সংক্রমণ নিয়ে কল‍্যাণী এইমসে ভর্তি দুই নার্স, মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার

রাজ্য সরকারকে বিশেষজ্ঞ দলগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রেখে ‘কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং’ ও অন্যান্য সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ সতর্কতার সঙ্গে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতির উপর নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
প্রতীকী চিত্র।
  • শেষ আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৫

রাজ্যে নিপা ভাইরাসের হদিশ মিলেছে। দু’জন সেই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। দু’জনই পেশায় নার্স। এক জন পুরুষ এবং একজন মহিলা। তাঁদের বাড়ি নদিয়া এবং পূর্ব বর্ধমানে। তাঁরা কল‍্যাণী এইমসে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কী ভাবে এই ভাইরাসে সংক্রমিত হলেন, তা জানতে প্রশাসন নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান এবং উত্তর ২৪ পরগনায় খোঁজখবর নিচ্ছে। এই বিষয় নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের কথা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

জানা গিয়ে দু’জন অসুস্থতা নিয়ে কল‍্যাণী এইমসে আসেন। সেখানে রিসার্চ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরিতে তাঁদের পরীক্ষা করানো হয়। এর পরেই ধরা পড়ে নিপা ভাইরাসের উপসর্গ। সেখানেই তাঁদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কী ভাবে তাঁরা এই ভাইরাসে সংক্রমিত হলেন তা জানতে খোঁজখবর শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কারা এই মারণ ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন, তাঁদের চিহ্নিত করতে তৎপরতা শুরু হয়েছে।

নিপা একটি জুনোটিক ভাইরাস। মূলত প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। এই ভাইরাসে গুরুতর অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) এবং মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এর মৃত্যুহার খুব বেশি। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। বাদুড় (ফ্লাইং ফক্স) ও শূকরকে নিপা ভাইরাসের বাহক বলে মনে করা হয়। ১৯৯৯ সালে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে প্রথম এই ভাইরাস শনাক্ত হয়। নিপা সংক্রমণে শ্বাসযন্ত্র ও স্নায়ুর সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই রোগের কোনও নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে রোগের উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয় বলে জানিয়েছেন এক চিকিৎসক।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব ও স্বাস্থ্য দফতরের প্রধান সচিবের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছে। রাজ্য সরকারকে সহায়তা করতে একটি জাতীয় যৌথ ‘আউটব্রেক রেসপন্স টিম’ মোতায়েন করা হয়েছে। এই দলটি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থায় কাজ করবে। এই দলে রয়েছেন, অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড পাবলিক হাইজিন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি , ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি, কল্যাণীর এইমস, পশ্চিমবঙ্গের বনদফতর,কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের কর্তারা।

জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পক্ষ থেকে রাজ্য সমন্বিত রোগ পর্যবেক্ষণ প্রোগ্রাম (আইডিএসপি)-এর কাছে নিপা ভাইরাস সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। সংক্রামক রোগের সতর্কতা হিসেবে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। জাতীয় স্তরে সমন্বয়ের জন্য দিল্লির ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (এসসিডিসি)-এর অধীনে থাকা পাবলিক হেলথ এমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার (পিএইইওসি) সক্রিয় করা হয়েছে।

নবান্ন সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখেছেন। কেন্দ্রের তরফে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এ ছাড়াও, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফোনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। পিটিআই সূত্রে জানানো হয়েছে, ল্যাবরেটরি সহায়তা, নজরদারি জোরদার, রোগী ব্যবস্থাপনা, সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শ-সহ সমস্ত জরুরি কাজকর্ম ইতিমধ্যেই সক্রিয় করা হয়েছে।

রাজ্য সরকারকে বিশেষজ্ঞ দলগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রেখে ‘কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং’ ও অন্যান্য সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ সতর্কতার সঙ্গে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতির উপর নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে বলে সূত্রের খবর।


Share