Stone Syndicate

২৮ কোটি টাকা, ১৫ কেজি সোনা উদ্ধারের পর জোর তল্লাশি! ‘পাথরসম্রাট’ টুলু মণ্ডলের একাধিক বাড়িতে পুলিশের হানা, খোঁজ নেই অভিযুক্তের

একই সঙ্গে টুলুর সোঁৎশালের একটি বাড়ি এবং মহম্মদবাজারের একটি পার্কিং এলাকাতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতের সম্পত্তির প্রকৃত পরিমাণ ও তার আর্থিক উৎসের হদিস পেতেই এই তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে।

পাথর মাফিয়া টুলু মন্ডল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বীরভূম
  • শেষ আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৬ ০৮:৫৬

পাকা চওড়া রাস্তার ধারে বিশাল প্রবেশদ্বার। সেই গেট পেরোলেই নজরে পড়ে সুসজ্জিত এক বিস্তীর্ণ লন। বাহারি গাছপালা ও সারি সারি ঝাউগাছে ঘেরা সেই প্রাঙ্গণের শেষে দাঁড়িয়ে চারতলা একটি বাড়ি। অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী, ‘পাথরসম্রাট’ নামে পরিচিত টুলু মণ্ডলের সিউড়ির এই বাড়িতেই বৃহস্পতিবার সকালে পৌঁছোয় পুলিশ। সূত্রের দাবি, সিউড়ির সুভাষপল্লির এই বাড়িতেই থাকতেন টুলু মণ্ডল। তবে নির্বাচন পরবর্তী সময় থেকে তাঁকে আর এলাকায় দেখা যায়নি।

সূত্রের খবর, ধৃত মিনার মণ্ডলের চারতলা বাড়িটি অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধায় সজ্জিত। বাড়ির ভিতরে রয়েছে লিফ্‌ট, জিম এবং দামি আসবাবে সাজানো একাধিক ঘর। মিনার মণ্ডলের সম্পত্তি ও টাকার উৎসের সন্ধানে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বীরভূম জেলা পুলিশ একযোগে একাধিক জায়গায় তল্লাশি শুরু করেছে। টুলুর সুভাষপল্লির বাড়িতে তল্লাশিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডিএসপি (ডিইবি) সুরজিৎ মণ্ডল, ডিএসপি (সদর) সৌরভ ভট্টাচার্য এবং সিউড়ি থানার আইসি শৈলেন্দ্র উপাধ্যায়-সহ পুলিশের অন্যান্য আধিকারিকরা। একই সঙ্গে টুলুর সোঁৎশালের একটি বাড়ি এবং মহম্মদবাজারের একটি পার্কিং এলাকাতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতের সম্পত্তির প্রকৃত পরিমাণ ও তার আর্থিক উৎসের হদিস পেতেই এই তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে।

টুলু মণ্ডলের সোঁৎশালের বাড়িটিও একইভাবে নজরকাড়া। সূত্রের খবর, এটি তাঁর পৈতৃক ভিটে। গ্রামে ঢোকার মুখেই অবস্থিত বিশাল সাদা রঙের চারতলা বাড়িটি। অভিযোগ, এই বাড়ি থেকেই দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিভিন্ন দুর্নীতির কর্মকাণ্ড পরিচালিত হত। চারদিক উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘেরা বাড়িটির সামনে রয়েছে বড় লোহার গেট। ভিতরে রয়েছে বিস্তীর্ণ খোলা জায়গা। বাড়ির একাধিক অংশে এখনও নির্মাণকাজ চলছে। বৃহস্পতিবার এই বাড়িতেও তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, বুধবার বীরভূমের মহম্মদবাজারে মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে ২৮ কোটি টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করে পুলিশ। সেই তদন্তেই সামনে আসে টুলু মণ্ডলের নাম। সম্পর্কে তিনি মিনারের শ্যালক। বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনার উৎস জানতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার মিনারকে গ্রেফতার করা হয়। সকালে তাঁর বাড়ি থেকে একের পর এক ট্রাঙ্ক ও আলমারি বের করে আনতে দেখা যায় তদন্তকারীদের। মোট ছ'টি ট্রাঙ্ক এবং দু'টি আলমারি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া নগদ টাকা ও সোনার বড় অংশ ওই ট্রাঙ্ক এবং আলমারিগুলিতেই রাখা ছিল। যদিও মিনার গ্রেফতার হলেও, টুলু মণ্ডলের খোঁজ এখনও মেলেনি।

বীরভূমে ‘পাথরসম্রাট’ নামেই পরিচিত টুলু মণ্ডল। যদিও স্থানীয়দের একাংশ তাঁকে ‘পাথর মাফিয়া’ বলেও উল্লেখ করেন। অভিযোগ, মহম্মদবাজার, মুরারই ও নলহাটির বিস্তীর্ণ ব্যাসল্ট পাথর খনি থেকে রাজ্য, ভিন্‌রাজ্য এমনকি বাংলাদেশে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত কালো স্টোনচিপ সরবরাহের বড় অংশই তাঁর নিয়ন্ত্রণে। খনি থেকে পাথর ক্রাশারে এসে বিভিন্ন মাপে ভাঙার পর লরিতে করে বাইরে পাঠানো হয়। আর সেই পরিবহণের জন্য প্রয়োজনীয় ডুপ্লিকেট কার্বন রিসিট (ডিসিআর)-এর নিয়ন্ত্রণও টুলুর হাতেই ছিল বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, তাঁর অনুমতি ছাড়া ক্রাশার থেকে একটি লরিও পাথর নিয়ে বেরোতে পারত না। সেই সাম্রাজ্যের পরিধি কতটা, কোথায় কোথায় তাঁর সম্পত্তি রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।


Share