Tulu Mondal

দুবাইয়ে টুলু মণ্ডল! মেয়ে-জামাইয়ের কাছে লুকিয়ে থাকার দাবি, সিল হল মূল অফিস, বাজেয়াপ্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি

তদন্তে উঠে এসেছে, তিনি বর্তমানে দুবাইয়ে মেয়ে ও জামাইয়ের কাছে রয়েছেন। এ দিকে পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, টুলুর পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহৃত জমির একটি অংশ সরকারি খাস জমি হতে পারে।

মিনার মণ্ডলকে নিয়ে টুলুর মূল অফিসে হানা দেয় পুলিশ বাহিনী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬ ০৬:০৩

অবৈধ পাথর খাদান কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত টুলু মণ্ডল ওরফে নাজিবুদ্দিন মণ্ডল এখনও অধরা। একের পর এক শাগরেদ গ্রেফতার হলেও তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি। এ দিকে তাঁর বিপুল সম্পত্তির খোঁজ সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, টুলু দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়েছেন। তদন্তে উঠে এসেছে, তিনি বর্তমানে দুবাইয়ে মেয়ে ও জামাইয়ের কাছে রয়েছেন। এ দিকে পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, টুলুর পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহৃত জমির একটি অংশ সরকারি খাস জমি হতে পারে। যদিও সেই জমির সঠিক পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। পাশাপাশি অভিযোগ উঠেছে, টুলুর পাথরের ব্যবসার কোনও বৈধ ট্রেড লাইসেন্সও ছিল না। অবৈধ দখল, লাইসেন্স সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেন-সহ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ দিকে শনিবার গভীর রাতে মিনার মণ্ডলকে সঙ্গে নিয়ে টুলু মণ্ডলের মূল অফিসে তল্লাশি চালায় পুলিশ। মহম্মদবাজার থানার সোঁতশাল এলাকায় অবস্থিত টুলুর পাথর ব্যবসার কার্যালয়ে পৌঁছে দীর্ঘক্ষণ ধরে নথিপত্র খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। তল্লাশি শেষে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল বাজেয়াপ্ত করে অফিস থেকে বেরিয়ে আসেন পুলিশ আধিকারিকরা। পরে অফিসটি সিল করে দেওয়া হয়। যদিও ওই তল্লাশিতে ঠিক কী কী নথি বা তথ্য উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি।

এ দিকে, টুলু মণ্ডলের পাথর ব্যবসার জন্য বৈধ ট্রেড লাইসেন্স ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে লাইসেন্সের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। সমিতির একাংশের দাবি, লাইসেন্স থাকতেও পারে, আবার নাও থাকতে পারে। সমিতিরই এক সূত্রের বক্তব্য, “আসলে ট্রেড লাইসেন্স ছিল কি না, তা যাচাই করার মতো পরিস্থিতিই তৈরি হয়নি। গোটা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ টুলু নিজেই করতেন।” অন্য দিকে, প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, পাথর খাদান ও সংশ্লিষ্ট পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহৃত জমির একটি অংশ সরকারি খাস জমির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে ঠিক কতটা জমি সরকারি, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রশাসনের তরফে জমির মাপজোক শুরু হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।

এ দিকে, তদন্তে টুলু মণ্ডলের মেয়ের নামে একটি পেট্রোল পাম্পের খোঁজ পেয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই সেটি সিজ করা হয়েছে। পাশাপাশি টুলুর নামে থাকা আরও কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মামলার তদন্তে দুই হিসাবরক্ষক পুলক দে ও রেখিউল ইসলামকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। এরই মধ্যে টুলুর পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার দাবি করেছেন, টুলু মণ্ডলের মেয়ে শালমা বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা এবং তিনি স্বামীর সঙ্গে দুবাইয়ে রয়েছেন। তাঁর কথায়, নাজিবুদ্দিন মণ্ডলও তাঁদের কাছেই গিয়েছেন। যদিও এই দাবির স্বাধীনভাবে সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনও মেলেনি।


Share