Jadavpur Arson

পুলিশকর্মীদের উর্দি ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে! যাদবপুরে ভাঙচুরের ঘটনায় দু’টি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা-সহ চারটি মামলা দায়ের

গোলপার্ক থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেট পর্যন্ত মিছিল করার ডাক দেয় অখিল ভারতীয় বিদ‍্যার্থী পরিষদ। পাল্টা ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে যাদবপুর থানা পর্যন্ত কমিউনিস্টরা মিছিলের ডাক দেয়। দু’টি মিছিলের ক্ষেত্রেই পুলিশের অনুমতি ছিল না।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২১ আগস্ট ২০২৬ ১১:২৫

বুধবার রাত থেকে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। এবিভিপি এবং কমিউনিস্ট ছাত্র সংগঠনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ঘটনায় দিনই গভীর রাতে একটি অভিযোগ এবিভিপি দায়ের করেছিল। এখনও পর্যন্ত ক্রমাগত যা ঘটনা ঘটেছে তা নিয়ে মোট চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে লালবাজার জানিয়েছে।

এবিভিপির অভিযোগ ছিল, অবৈধ জিবি বৈঠকের প্রতিবাদ করেছিল বলে কলেজের কনভেনর-সহ তিন জনকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। ওই দিন আবার ঘটনার পরে বিশ্ববিদ্যালয় ক‍্যাম্পাসের ভিতরে বহিরাগতরা ঢুকে ভাঙচুর, ফেস্টুন ছিঁড়ে দেওয়া এবং অরবিন্দ ভবনের সামনে তাতে অগ্নিসংযোগ করার অভিযোগ ওঠে। বুধবার রাতের ঘটনার নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার এবিভিপি এবং কমিউনিস্ট ছাত্র সংগঠন দু’পক্ষই মিছিলের ডাক দেয়। বুধবার রাতেই ১১ জন কমিউনিস্ট সমর্থকদের বিরুদ্ধে যাদবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। 

গোলপার্ক থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেট পর্যন্ত মিছিল করার ডাক দেয় অখিল ভারতীয় বিদ‍্যার্থী পরিষদ। পাল্টা ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে যাদবপুর থানা পর্যন্ত কমিউনিস্টরা মিছিলের ডাক দেয়। দু’টি মিছিলের ক্ষেত্রেই পুলিশের অনুমতি ছিল না। এবিভিপির মিছিল যাদবপুর থানার সামনে আটকে দেওয়া হলে, ব‍্যারিকেড ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেট পর্যন্ত এগিয়ে আসে। উল্টোদিকে কমিউনিস্টরা ৪ নম্বর গেট পর্যন্ত আসার চেষ্টা করে। দু’টি ক্ষেত্রেই পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। 

এই ঘটনায় দু’টি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছিল। পুলিশের অভিযোগ, এবিভিপির মিছিলে কোনও অনুমতি ছিল না। তার পরেও তাঁরা পুলিশের নির্দেশকে অমান্য করে মিছিল করে তাঁরা। ব‍্যারিকেড ভাঙা হয়। ফলে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পথচলতি মানুষের ভোগান্তি হয়। এদের মধ্যে কয়েক জন বিশ্ববিদ‍্যালয়ের গেট টপকে ভিতরে যাওয়ার চেষ্টা করে। সেখানে পুলিশ মোতায়েন ছিল। তাঁদের সঙ্গে বচসা এবং ধস্তাধস্তি করে। এই ঘটনায় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার ১৮৯, ১৯০, ১৯১, ১৩২, ২২৩ এবং ৩২৪ নম্বর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

অন‍্য দিকে, ৮বি বাসস্ট্যান্ডের কমিউনিস্টদের মিছিলেও অশান্তি হয়। তারাও এগিয়ে আসতে চায়। এর ফলে পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশকর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। অভিযোগ, সেই ধস্তাধস্তির সময় এক পুলিশকর্মীর উর্দি ছিঁড়ে যায়। কর্তব্যরত সরকারি কর্মীদের মারধর, কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ-সহ ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

অপর দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি, বুধবার রাতে কয়েক জন বহিরাগত বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকে পড়ে। সেখানে ঢুকে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরা ভাঙা হয়। মূল গেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীক ভেঙে দেওয়া হয়। হিংসা ছড়ানোর ফলে ছাত্র এবং নিরাপত্তারক্ষীরা আত্মগোপন করতে বাধ্য হন। ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার ১৮৯, ১৯০, ১৯১, ৩২৪, ৩২৬(এফ), ৩৫১(২) এবং ৩২৯(৩) ধারা ও পিডিপিপি আইনের ৩(৪) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে লালবাজারের তরফে জানানো হয়ছে। কাউকেই এখনও পর্যন্ত থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।


Share