Maoist Arrested

কলকাতা থেকে গ্রেফতার মাওবাদী জঙ্গি বেলা, মাথার দাম ছিল ১৫ লক্ষ টাকা, আত্মসমর্পণ মাধাইয়ের

মাওবাদী জঙ্গি শ্রদ্ধা বিশ্বাস নদিয়ার চাকদহের কালীপুরের বাসিন্দা। বর্তমানে শ্রদ্ধার বয়স ৫৫ বছর। ২০০৫ সাল থেকে এই শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে বেলা ঝাড়খন্ডের সারেন্ডার জঙ্গলে জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

মাওবাদী জঙ্গি শ্রদ্ধা বিশ্বাস।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ১১:০১

পালাবদল হতেই শহরে গ্রেফতার মাওবাদী জঙ্গি নেত্রী শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে বেলা। তাঁর মাথার দাম ছিল ১৫ লক্ষ টাকা। এ ছাড়াও, শ্রদ্ধাকে আশা, পঞ্চমী, দীপা এবং সন্ধ‍্যা নামেও পরিচিত ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ২০০৫ থেকে শ্রদ্ধা ঝাড়খন্ডে মাওবাদী জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এর পাশাপাশি, আরও এক মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। তার নাম মাধাই পাত্র। মাধাই হুগলির জাঙ্গিপাড়ার বাসিন্দা।

মাওবাদী জঙ্গি শ্রদ্ধা বিশ্বাস নদিয়ার চাকদহের কালীপুরের বাসিন্দা। বর্তমানে শ্রদ্ধার বয়স ৫৫ বছর। ২০০৫ সাল থেকে এই শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে বেলা ঝাড়খন্ডের সারেন্ডার জঙ্গলে জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শ্রদ্ধা মাওবাদী সংগঠনের আঞ্চলিক কমিটির সদস্য ছিল। মাওবাদী জঙ্গি মিশির বেসরার গ্রুপের সদস্য ছিল। শ্রদ্ধার মাথার দাম ছিল ১৫ লক্ষ টাকা। সম্প্রতি শ্রদ্ধা সারেন্ডার জঙ্গল থেকে এসেছেন। 

মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয়কুমার নন্দ জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ অভিযান চালায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের উত্তর কাশীপুর এলাকা থেকে শ্রদ্ধাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ঝাড়খণ্ড থেকে পুলিশ আসবে বলে জানান তিনি। কমিশনার অজয়কুমার নন্দ আরও জানান, শ্রদ্ধার বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ডে ২০টির বেশি মামলা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের গড়বেতায় শ্রদ্ধার বিরুদ্ধে মামলা ছিল। ২০০৪-০৫ সালে আদালত থেকে জামিন নেওয়ার পরে শ্রদ্ধা আর এ রাজ‍্যে আসেনি। বাকি কার সাথে কী যোগসূত্র রয়েছে তা পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। 

মিশির বেসরা মাওবাদী জঙ্গি সংগঠনের পলিটব‍্যুরো সদস্য ছিল। গত ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরের রাঁচির কাছে কুঠি এলাকায় থেকে মাওবাদী জঙ্গিনেতা মিশির বেসরা গ্রেফতার করা হয়। সে দিন ওই গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ ডেটোনেটর উদ্ধার হয়। জঙ্গিনেতা মিশির ‘ভাস্কর’ বা ‘সুনির্মল’ নামেও পরিচিত। ঝাড়খণ্ডে সংঘটিত একাধিক ভয়াবহ হামলার মূলচক্রী এই মিশির বেসরা। কিন্তু ২০০৯ সালে বিহারের লখিসরাই আদালত চত্বরে মাওবাদী জঙ্গিদের হামলার ঘটনা ঘটে। সেই সময় বিহার পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যায় বেসরা। সেই দিন মিশিরকে আদালতে হাজিরার জন‍্য আনা হচ্ছিল।

প্রায় দুই দশক পরেও ৬৬ বছরের মাওবাদী জঙ্গিনেতা মিসির বেসরা নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে অধরাই রয়ে গিয়েছে। এই সংগঠনের পলিটব্যুরোর বাকি সদস্যদের কেউ আত্মসমর্পণ করেছেন, কেউ আবার ছত্তীসগঢ়, তেলেঙ্গানা, মহারাষ্ট্র ও অন্ধ্রপ্রদেশে এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে। শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে বেলা এই মিশির বেসরার দলের সদস্য ছিল বলেই পুলিশ দাবি করেছে। কবে তিনি কলকাতা এসেছেন তা নিয়ে স্পষ্ট করেনি কলকাতা পুলিশ। পালাবদলের পরেই মাওবাদী জঙ্গিনেতাকে গ্রেফতার করায় পুলিশের সাফল্য হিসেবেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

মঙ্গলবার হুগলির জাঙ্গিপাড়ার বাসিন্দা মাধাই পাত্রও আত্মসমর্পণ করেন পুলিশের কাছে। তিনিও দীর্ঘ দিন মাওবাদী কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন। ২০০৭ সালে প্রথম বার গ্রেফতার হয়েছিলেন মাধাই। জামিন পাওয়ার পরে তিনি চলে যান ঝাড়খণ্ডে এবং সেখানেই সক্রিয় ছিলেন। পুলিশ কমিশনার বলেন, “অনেক দিন মাওবাদী কার্যকলাপ করার পরে তিনি (মাধাই) এখন আত্মসমর্পণ করে সাধারণ জীবনযাপন করতে চাইছেন। তিনি মূলস্রোতে ফিরতে চাইছেন। আমাদের যে আত্মসমর্পণ এবং পুনর্বাসন প্রকল্প রয়েছে, সেই অনুযায়ী তাঁকে সাহায্য করা হবে।”

আত্মসমর্পণকারী মাওবাদী মাধাইকেও মঙ্গলবার হাজির করানো হয় সাংবাদিক বৈঠকে। তিনি বলেন, “আমি সমাজের মূলধারায় ফিরে আসার চিন্তাভাবনা করেছি।” মাওবাদী সংগঠনে এখনও যাঁরা জড়িত রয়েছেন, তাঁদেরও আত্মসমর্পণ করে সমাজের মূল স্রোতে ফেরার আহ্বান জানান মাধাই।


Share