TMC

দলবিরোধী কাজের অভিযোগে দুই বিধায়ককে সাসপেন্ড করল তৃণমূল, ভাঙন অব্যাহত বিরোধী দলে

বহিষ্কারের পর সন্দীপন বলেন, “যারা অনৈতিক কাজ করে, দল তাদের সমর্থন করে। আর যারা নৈতিক কাজ করে, তাদের বহিষ্কার করে। আমরা তো জানতামই না, একটা হাজিরা খাতার সইকে প্রস্তাবের সই বলে চালানো হবে।” তবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

(বাঁ দিক থেকে) সন্দীপন সাহা এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ০৫:৫৫

দলবিরোধী কাজের জন‍্য দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করল তৃণমূল কংগ্রেস। এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা এবং উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে। ইমেল এবং হোয়াটসঅ‍্যাপের মাধ্যমে তাঁদের চিঠি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। দলের সিদ্ধান্তের কথা বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছেও পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিধানসভার সই জাল-কাণ্ডে সোমবার দুপুরে নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত এবং সন্দীপনই লিখিত অভিযোগ স্পিকারকে জানিয়েছিলেন। তার ভিত্তিতেই বিধানসভার সচিবালয় হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, পুলিশমন্ত্রী হিসাবে তাঁর কাছে বিষয়টি আসার পরেই তিনি সিআইডিকে তদন্তে যুক্ত করার নির্দেশ দেন। শুভেন্দুর সাংবাদিক বৈঠক শেষ হওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যেই তৃণমূল উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

বহিষ্কারের পর সন্দীপন বলেন, “যারা অনৈতিক কাজ করে, দল তাদের সমর্থন করে। আর যারা নৈতিক কাজ করে, তাদের বহিষ্কার করে। আমরা তো জানতামই না, একটা হাজিরা খাতার সইকে প্রস্তাবের সই বলে চালানো হবে।” তবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। 

পরিষদীয় ক্ষেত্রে এই দু’জনের ভূমিকা কী হবে? নিয়ম অনুযায়ী, এই দুই বিধায়ক ‘দলহীন’ হিসাবে থাকবেন। রাজ্যসভা নির্বাচন বা অন্য কোনও ক্ষেত্রে দলের হুইপ বা নির্দেশ মানতে তাঁরা বাধ্য থাকবেন না। পৃথক কোনও ঘটনায় তৃণমূল তাঁদের সদস্যপদ বাতিলেরও আবেদন জানাতে পারবে না। 

ঋতব্রতের ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতা নতুন নয়। ২০১৪ সালে তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ করেছিল সিপিএম। তাঁর মেয়াদ ছিল ২০২০ সাল পর্যন্ত। কিন্তু ২০১৭ সালে বিভিন্ন অভিযোগে তাঁকে বহিষ্কার করে সিপিএম। তার পর থেকে তিন বছর তিনি রাজ্যসভায় দলহীন সাংসদ হিসাবে ছিলেন। আরজি কর-কাণ্ডের পর জহর সরকার মধ্য মেয়াদে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলে তৃণমূলের টিকিটে দেড় বছরের জন্য সংসদের উচ্চকক্ষে গিয়েছিলেন ঋতব্রত। তার পর তাঁকে বিধানসভায় এনে প্রার্থী করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। 

ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে বহিষ্কারের পরেই দুই বিধায়কের নাম না-করে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেছেন বেলেঘাটার বিধায়ক তথা দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি লেখেন, “ফল প্রকাশের এক মাসও হয়নি। তার আগেই দলে বিদ্রোহ, বিশ্বাসঘাতকতা? দলের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ? তাহলে আমরা দাঁড়িয়েছিলাম কেন? আজ দিদি মুখ্যমন্ত্রী হলে তো অনেকে মন্ত্রী হওয়ার জন্য লবি করত। এখন হঠাৎ নানা কারণ দেখিয়ে দূরত্ব? এটা কাপুরুষতা। দলের কর্মপদ্ধতি নিয়ে দলের বৈঠকে খোলাখুলি বলব। প্রয়োজনে প্রকাশ্যে বলব। কিন্তু দলের পাশে থেকে। তাতে কাজ না-হলে তারপর দেখা যাবে।”

পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত এবং সন্দীপনদের নাম করে আক্রমণ করেন কুণাল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম এবং ছবি ব্যবহার করে জেতার ২০ দিনের মাথায় কেন শাসকপক্ষের কাছে দলের বিরুদ্ধে নালিশ জানানো হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কুণাল। তাঁর কথায়, “মমতাদি সরকার গড়লে সব ভাল। আর আজ দল ক্ষমতায় নেই বলে সব খারাপ হয়ে গেল? তা হলে দলের টিকিটে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন কেন?”

এই ঘটনার পরে আবার বিরোধী দলের ভাঙন হল।


Share