Mamata Banerjee

‘উগ্র বামপন্থী’দের নিতে আপত্তি নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, সমস্ত কমিউনিস্টদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানালেন তিনি

এ নিয়ে মমতাকে কটাক্ষ করেছেন রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "উনি রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক। কোনও মন্তব্য করব না।"

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১০ মে ২০২৬ ০২:৫১

এ বার ‘উগ্র বামপন্থী’দের সঙ্গে জোট করতে কোনও আপত্তি নেই তাঁর। বিজেপির কাছে বিপুল ভোটে পরাজয়ের পরে জোটবার্তা দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা মনে করেন, বিজেপিকে রুখতে ‘উগ্র বামপন্থী’দের প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি বাকি কমিউনিস্টদের তৃণমূলনত্রী মমতা জোটবার্তা দিয়েছেন। শনিবার বিজেপি বিরোধী যৌথমঞ্চ গড়ার ডাক দিয়েছেন তৃণমূলনত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বললেন, “আজ যা অবস্থা, বিজেপিকে রুখতে হলে বামপন্থী, অতিবাম সকলকে তৃণমূল কথা দিচ্ছে, যার যতটুকু শক্তি আছে, জাতীয় স্তরে যেমন লড়াই হবে, রাজ্যেও জোট বাঁধি।”

শনিবার ব্রিগেডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু। সেই দিন কালীঘাটে নিজের দফতরে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালিত হয়। সেখানেই জোটের বার্তা দেন মমতা। তিনি বলেন, “আমরা চাই একটা যৌথমঞ্চ তৈরি হোক। যাতে বিজেপি বিরোধী সব রাজনৈতিক দল, এমনকী, আপনারা যদি বলেন বামপন্থী, আমার কোনও ইগো নেই। সবাইকে নিয়ে চলতে চাই। আজ যা অবস্থা বিজেপিকে রুখতে হলে লেফট, আলট্রা লেফট সকলকে তৃণমূল কথা দিচ্ছে, যার যতটুকু শক্তি আছে, জাতীয় স্তরে যেমন লড়াই হবে, রাজ্যেও জোট বাঁধি।” তিনি তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করতেও রাজি বলে জানান মমতা। সময় জানিয়ে তিনি বলেন, “কোনও দল বসতে চাইলে আমি রাজি আছি। বিকেল ৪টে থেকে ৬টা পর্যন্ত অফিসে আছি। আমাকে জানাবেন। নিশ্চয়ই কথা বলব।”

সিপিএম এবং অতিবাম দলগুলির বিরুদ্ধে ভোটের সময় তৃণমূলকে সাহায্য করার অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। অতীতের নির্বাচনের ফলাফলে নিরিখে একাধিক এমন কেন্দ্র রয়েছে যেখানে সিপিএমের ভোট কাটাকাটির জন্য তৃণমূল জিতেছিল। আরজি আন্দোলনকে ডোবানোর মূল যে এই বাম এবং অতিবাম দলগুলি রয়েছে, তা নিয়েও বারবার সরব হয়েছিলের তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য ছিল, মমতা নিজে বাঁচার জন‍্য এদেরকে ব‍্যবহার করেছে। এ বারের নির্বাচনেও একাধিকবার আরজি করে নিহত চিকিৎসকের মা তথা পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথকে সমাজমাধ্যমে আক্রমণ করেছে কমিউনিস্টরা। 

গত ৩৪ বছরের সিপিএমের অপশাসনের পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্যবাসী সুযোগ দিয়েছিল। ‘লাল সন্ত্রাস’ বিরুদ্ধে মানুষের যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল তা ২০১১ সালে ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হয়েছিল। একদা কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে লড়াই করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এ বার তাঁদেরকেই কাছে টেনে নেওয়ার বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার বক্তব্য, নীতি-নৈতিকতা দূরে থাক। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সিপিএম, অতিবামদের সাহায্য চাইলেন তিনি।

মমতাকে জবাব দিয়েছেন শতরূপ ঘোষ। তিনি বলেন, “লড়াইয়ে বামপন্থী, গাঁধীবাদী, সব গণতান্ত্রিক মানুষ থাকবেন। কিন্তু আপনার মতো একটা চোরকে সঙ্গে নিয়ে, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আপনি একটা বোঝা। আপনার মতো চেরেদের দেখিয়ে বিজেপি রাজ‍্যে ভোট পায়। ভাইপো আর তাঁর দলের লোকেরা যে সম্পত্তি কামিয়েছিল, তা কী করে সেগুলি রক্ষা করবেন, তা ভাবুন।"

যদিও এ নিয়ে মমতাকে কটাক্ষ করেছেন রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “উনি রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক। কোনও মন্তব্য করব না।”


Share