TMC Reshuffle

তৃণমূল ভবন নিয়ে টানাপোড়েন চরমে! ঋতব্রতদের লাগানো তালা খুলে ভিতরে মালিকপক্ষ, ফিরহাদের চুক্তির দাবি তুলে পাল্টা চাপ বিদ্রোহী শিবিরের

আখরুজ্জামান বলেন, ‘‘ফিরহাদ হাকিম আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। তবু আমরা নতুন করে মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনতলা এবং চারতলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তা খুলে দিতে অনুরোধ করেছি। সেখানে আমাদের দলের সদস্যেরা বসবেন।’’

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ০৪:০৪

কলকাতার মেট্রোপলিটনের তৃণমূল ভবনে শুক্রবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের শিবির যে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিল, শনিবার সকালে তা খুলে ভিতরে প্রবেশ করেন মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা। বাড়ির মালিকের তরফে এক ব্যক্তি এসে তালা খোলেন। সূত্রের দাবি, ঋতব্রতদের কাছ থেকে চাবি এনে তালা খোলা হয়েছে। দলীয় কার্যালয়ের দখল ঘিরে তৃণমূলের দুই শিবিরের সংঘাত যে আরও তীব্র হচ্ছে, এই ঘটনাই তার নতুন ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের বিধায়ক আখরুজ্জামান শনিবার দাবি করেন, মেট্রোপলিটানের ওই বাড়ির মালিকের সঙ্গে তৃণমূলের যে চুক্তি হয়েছিল, তাতে দলের পক্ষে স্বাক্ষর করেছিলেন ফিরহাদ হাকিম। বর্তমানে ফিরহাদও ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গেই রয়েছেন। তাই এই বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে মনে করছেন তাঁরা। আখরুজ্জামান বলেন, ‘‘ফিরহাদ হাকিম আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। তবু আমরা নতুন করে মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনতলা এবং চারতলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তা খুলে দিতে অনুরোধ করেছি। সেখানে আমাদের দলের সদস্যেরা বসবেন।’’

সূত্রের খবর, ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলার সংস্কারের কাজের উদ্দেশ্যে মালিকপক্ষ ভবনের ভিতরে প্রবেশ করে। এ জন্য তারা প্রয়োজনীয় নথিপত্রও সঙ্গে নিয়ে এসেছিল। সেই নথি যাচাইয়ের পরই ভবনের তালা খুলে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, শুক্রবার সন্ধ্যায় তৃণমূল ভবনে যান ঋতব্রত, ফিরহাদ, সন্দীপন সাহা, আখরুজ্জামান ও জাভেদ খান-সহ একাধিক নেতা। সেখানে কিছুক্ষণ বৈঠক করার পর তাঁরা দলীয় কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে চাবি নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি ঋতব্রত-ঘনিষ্ঠ শিবিরকে তীব্র আক্রমণ করে অভিযোগ করেন, দলীয় কার্যালয় কার্যত ‘দখল’ করে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর দাবি, এই ঘটনার নেপথ্যে রাজ্য সরকার ও পুলিশেরও মদত রয়েছে।

মেট্রোপলিটনের ওই কার্যালয়ে শুক্রবার টাঙানো নতুন প্ল্যাকার্ডে দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে অরূপ রায়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে কোনও নেতার ছবি রাখা হয়নি। তবে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের প্ল্যাকার্ডে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি রয়েছে। কার্যালয়ের ভিতরেও বিভিন্ন জায়গায় মমতার ছবি আগের মতোই রয়েছে, যদিও সেগুলিতে কোনও পরিবর্তন আনেননি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির। তাঁদের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁরা দলের পরামর্শদাতা হিসেবেই রাখতে চান।


Share    

TMC