NRS Hospital

ফেন্টানিলের তিন শিশি, বাঁ হাতে ছুঁচের দাগ! নীলরতন সরকার মেডিকেলে রূপালীর রহস্যমৃত্যুতে উঠছে একাধিক প্রশ্ন

যে শৌচাগার থেকে দেহ উদ্ধার হয়, তা ব‍্যবহার করত হাসপাতালের কর্মীরাই। নিরাপত্তারক্ষী, সেখানে কর্মরত নার্স এবং ডাক্তারদের সঙ্গে পুলিশ কথা বলেছে।

নীলরতন হাসপাতালে নার্সের মৃত্যু ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৬ ০৭:২৪

তিনটি ভয়াল ছিল। একটা ইঞ্জেকশন ছিল। প্রতিটি ভায়াল দু'মিলিলিটারের। পুলিশ সূত্রের খবর, তিনটিই ফেন্টানিলের শিশি ছিল। সবকটি হাসপাতালের জিনিস ছিল। বাঁ হাতের কনুইয়ে ছুঁচের দাগ রয়েছে। শরীরের অন্য অঙ্গে ছুঁচ ফোটানো হয়েছিল কি না, তা জানতে ময়নাতদন্ত চলছে। পুলিশ সূত্রের আরও জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত রহস্যমৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। পরিবারের তরফে এখনও কোনও অভিযোগ এন্টালি থানায় দেওয়া হয়নি।

জানা গিয়েছে, রূপালী পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের বাসিন্দা। ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই থেকে নীলরতন সরকার মেডিকেলে কর্মজীবন শুরু করেন। স্বামী রাজুর সঙ্গে সংবাদমাধ্যমে পরিচয় হয়েছিল। তার পরে প্রেম হয়। দু’বছর আগে রেজিস্ট্রি করেন। গত বছর হিন্দু ধর্মমতে বিয়ে করেন। পারিবারিক অশান্তি আদৌ ছিল কি না, বা পণের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিবাহবহির্ভূত কোনও সম্পর্ক ছিল কি না, তা-ও জানা যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে রূপালীর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ সেটি পরীক্ষা করে দেখছে বলে লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে। 

যে শৌচাগার থেকে দেহ উদ্ধার হয়, তা ব‍্যবহার করত হাসপাতালের কর্মীরাই। নিরাপত্তারক্ষী, সেখানে কর্মরত নার্স এবং ডাক্তারদের সঙ্গে পুলিশ কথা বলেছে। যে ভবনের যে তলা থেকে দেহটি উদ্ধার করা হয়েছে পুরো ফ্লোরের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে এক পুলিশকর্তা জানিয়েছেন।

ফেন্টানিল মূলত একটি সেডেটিভ ওষুধ। ব্যথা থেকে সাময়িক মুক্তি দিতে নির্দিষ্ট ডোজে এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অবস করতেও এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়। শিরার মধ্যে এই ওষুধ ব্যবহার করলে দ্রুত কাজ করা শুরু করে। চিকিৎসকদের দাবি, সাধারণত ০.২ থেকে ০.৩ মিলিলিটারের বেশি কোনও ভাবেই এই ওষুধ প্রয়োগ করা হয় না।

রূপালী নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি এই ওষুধের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল ছিলেন। ডোজ বেশি হলে যে পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে তা-ও তাঁর জানার কথা। যদি নির্দিষ্ট পরিমাণ সেবন করতেন তাহলেও প্রাণ হারাতে হত না। প্রশ্ন উঠছে, রূপালী কী ভাবে পুরো শিশির তরল নিজের শরীরে প্রয়োগ করলেন? তিনি নিয়মিত ফেন্টানিল সেবন করতেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তিনি ভুলবশত এতটা তরল শরীরে নিয়েছিলেন, না কি জেনে-বুঝেই ফেন্টানিল নিয়েছিলেন, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, গতকাল রাত ৮টা থেকে ওই নার্সের নাইট শিফট ছিল। রাত ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ তিনি স্ত্রীরোগ বিভাগে এইচডিইউ ওয়ার্ডের কর্মরত ছিলেন। সেখানকার শৌচাগারে তিনি যান। প্রায় সাত মিনিট পরেও রূপালী না ফিরলে সহকর্মীরা তাঁকে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ভিতর থেকে কোনও সাড়া মেলেনি। শৌচাগারের দরজাও ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। এরপর কোনও উপায় না দেখে মহম্মদ শামসের আলম এবং ২০ শ্রেয়া গায়েন দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন। তাঁরা ওই নার্সকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থলে যান রাজ‍্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি স্বাস্থ্য দফতরের তরফে পৃথক ভাবে তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনার পরে নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজে যান কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল এবং ডেপুটি কমিশনার সুবিমল পাল।


Share