NRS Hospital

এনআরএসে দেহ ময়নাতদন্ত করাতে চান না মৃতার স্বামী, ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করলেন লালবাজারের কর্তারা, আসবে ফরেন্সিকের দল

মৃতার স্বামী ইতিমধ্যেই নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজের কর্তৃপক্ষকে আপত্তির কথা জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, এনআরএস হাসপাতালে তাঁর স্ত্রীর দেহের ময়নাতদন্ত না করা হোক। অন‍্য কোনও সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে দেহ ময়নাতদন্ত করা হোক।

(বাঁ দিক থেকে) অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল এবং মৃত নার্স রুপালী বর্মণ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৬ ০২:০৫

নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজের শৌচাগার থেকে কর্তব্যরত নার্সের রহস‍্যমৃত্যু হয়েছে। তাঁর শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পুলিশ সূত্রের খবর, তাঁর দেহের পাশেই পড়ে ছিল মোবাইল ফোন। মৃতার স্বামী রূপালী বর্মণের দেহের ময়নাতদন্ত ওই হাসপাতালে হোক তা চান না। মৃত্যুর কারণ নিয়ে তাঁর স্বামী সন্দিহান।

মৃতার স্বামী ইতিমধ্যেই নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজের কর্তৃপক্ষকে আপত্তির কথা জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, এনআরএস হাসপাতালে তাঁর স্ত্রীর দেহের ময়নাতদন্ত না করা হোক। অন‍্য কোনও সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে দেহ ময়নাতদন্ত করা হোক।

এ দিন সকালে ঘটনাস্থলে যান রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল এবং ডেপুটি কমিশনার সুবিমল পাল ঘটনাস্থলে যান। লালবাজারের হোমিসাইড শাখার গোয়েন্দারাও সেখানে উপস্থিত রয়েছেন। বেরিয়ে অতিরিক্ত কমিশনার কুনাল আগরওয়াল জানান, “শৌচাগার থেকে তিনটি ইঞ্জেকশন পাওয়া গিয়েছে। ঘটনাস্থল ঘিরে রাখা হয়ে। সেখানে ফরেন্সিকের একটি দল আসবে। স্বামী এসেছেন। তাঁর সাথে পুলিশ কথা বলেছে। প্রত‍্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, দরজা বাইরে থেকে বন্ধ ছিল। পরিবার যেখানে চাইবে সেখানেই দেহের ময়নাতদন্ত করার ব‍্যবস্থা করা হবে।” হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পুলিশ সংগ্রহ করেছে বলেও কুনাল আগরওয়াল জানিয়েছেন। 

উল্লেখ্য, রাত ৮টা থেকে ওই নার্সের নাইট শিফট ছিল। রাত ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ তিনি স্ত্রীরোগ বিভাগে এইচডিইউ ওয়ার্ডের কর্মরত ছিলেন। সেখানকার শৌচাগারে তিনি যান। প্রায় সাত মিনিট পরেও রূপালী না ফিরলে সহকর্মীরা তাঁকে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ভিতর থেকে কোনও সাড়া মেলেনি। শৌচাগারের দরজাও ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। এরপর কোনও উপায় না দেখে মহম্মদ শামসের আলম এবং ২০ শ্রেয়া গায়েন দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন। তাঁরা ওই নার্সকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল সূত্রের খবর, নার্সের হাতের শিরায় হাতায় ইঞ্জেকশন নেওয়ার কিচ্ছু চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। ফেন্টানিল ইঞ্জেকশন নিয়েছেন বলে মনে করছে চিকিৎসকেরা। রোগীকে ঘুম পারানোর জন‍্য ফেন্টানিল ব‍্যবহার করা হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই তা স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।


Share