Theft

জন্মদিনের কেক খেয়ে শুরু চুরি! গড়িয়ার বাড়ি থেকে পাঁচ লক্ষেরও বেশি সামগ্রী নিয়ে চম্পট তিন দুষ্কৃতীর

দক্ষিণ ২৪ পরগনার গড়িয়ার একটি বাড়িতে জানলার গ্রিল কেটে ঢুকে নগদ টাকা, দামি রত্ন, বিদেশি ডলার ও মদ নিয়ে পালাল তারা। ৪০ মিনিট ধরে তারা চুরির তান্ডব চালায়।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, গড়িয়া
  • শেষ আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৬ ০৯:৩৮

জন্মদিনের কেক খেয়েই চুরির ছক! ফ্রিজ খুলে কেক খাওয়ার পর গড়িয়ার বাড়ি থেকে নগদ টাকা, দামি রত্ন, বিদেশি ডলার এবং মদ নিয়ে পালাল তিন দুষ্কৃতী। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে বাড়িতে তাণ্ডব চালিয়ে পাঁচ লক্ষ টাকারও বেশি সামগ্রী নিয়ে তারা চম্পট দেয়। রবিবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার গড়িয়ার ফরতাবাদে এই চুরির ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ফরতাবাদের বি-৬ প্রান্তিকা এলাকার বাসিন্দা পৃথ্বীরাজ রায়। রবিবার রাতে বাড়িতে কেউ ছিলেন না। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাড়ির পিছনের জানলার গ্রিল কেটে ভিতরে ঢোকে তিন দুষ্কৃতী। রাত ৮টার পর তাদের বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখা যায়। প্রত্যেকের মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা ছিল। বাড়ির ভিতরে ঢুকেই প্রথমেই তারা ফ্রিজের দরজা খোলে। সেখানে রাখা জন্মদিনের কেক দেখতে পেয়ে তা খেতে শুরু করে। কেক খাওয়া শেষ হতেই শুরু হয় চুরির কাজ।

জানা গিয়েছে, দিন তিনেক আগেই পৃথ্বীরাজের মেয়ে সুকন্যা রায়ের জন্মদিন ছিল। সেই উপলক্ষে বাড়িতে কেক কেটে অনুষ্ঠান হয়েছিল। বেঁচে যাওয়া কেক ফ্রিজে রাখা ছিল। দুষ্কৃতীরা সম্ভবত সেই কেকের কথা জানত। অভিযোগ, কেক খাওয়ার পর বাড়ির আলমারি খুলে সমস্ত জামাকাপড় বাইরে বের করে দেয় তারা। এরপর লকার থেকে নগদ টাকা, দামি রত্ন এবং বিদেশি ডলার নিয়ে একটি ব্যাগে ভরে।

শুধু আলমারিতেই থেমে থাকেনি চোরেদের তল্লাশি। বাড়ির ঠাকুরঘরেও তারা ঢোকে। সেখানে থাকা রাধাকৃষ্ণের একটি মূর্তি সোনার কি না, তা যাচাই করতে মূর্তির গায়ের পোশাক খুলেও পরীক্ষা করে। যদিও শেষ পর্যন্ত তারা মূর্তিটি নিয়ে যায়নি। বাড়িতে থাকা বিদেশি মদও দুষ্কৃতীরা হাতিয়ে নেয়।

পুরো ঘটনাটি বাড়িতে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। ফুটেজে তিন জনের গতিবিধি দেখা গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। চুরির পর যাতে তাদের শনাক্ত করা না যায়, সেই উদ্দেশ্যে তারা সিসিটিভির হার্ড ডিস্ক খুঁজতে শুরু করে। তবে সেটি খুঁজে পায়নি। অভিযোগ, বাড়ির একটি ক্যামেরাও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে তল্লাশি চালানোর পর যে পথ দিয়ে ঢুকেছিল, সেই পথেই বেরিয়ে যায় তিন জন।

পরিবারের দাবি, চুরি যাওয়া সামগ্রীর বাজারমূল্য পাঁচ লক্ষ টাকারও বেশি। নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্রের পাশাপাশি পরিবারের ছেলের পড়াশোনার গুরুত্বপূর্ণ নথিও নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। পরিবারের আরও দাবি, কয়েক দিন আগেই বাড়িতে জন্মদিনের অনুষ্ঠান হয়েছিল। সেই সময় পাওয়া দামি উপহারের বিষয়ে আগে থেকেই খবর ছিল চোরেদের কাছে। সেই কারণেই পরিকল্পনা করে ফাঁকা বাড়িতে হানা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

মাত্র ৪০ মিনিটে এমন পরিকল্পিত চুরির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। এই ঘটনার পিছনে পরিচিত কারও হাত রয়েছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। দুষ্কৃতীদের পরিচয় এবং চুরির নেপথ্যের পরিকল্পনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


Share