Arrest

ক্যামাক স্ট্রিটে বিলবোর্ড কাণ্ডে তিনটি এফআইআর দায়ের, গ্রেফতার ১৩, অভিষেক-ডেরেক-হুমায়ুনদের নামেও রুজু মামলা

দায়ের হওয়া এফআইআরগুলিতে অভিযুক্তদের তালিকায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং হুমায়ুন কবীরের নামও রয়েছে।

ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরে বিলবোর্ড খোলা নিয়ে পুলিশ ও পুরসভার সঙ্গে বচসা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৮ আগস্ট ২০২৬ ১০:৫৬

ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর থেকে বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে অশান্তির ঘটনায় মোট তিনটি এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দায়ের হওয়া এফআইআরগুলিতে অভিযুক্তদের তালিকায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং হুমায়ুন কবীরের নামও রয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক সংশ্লিষ্ট ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।

তিনটি মামলাই দায়ের হয়েছে শেক্সপিয়র সরণি থানায়। এর মধ্যে একটি অভিযোগ করেছেন কলকাতা পুরসভার এক আধিকারিক এবং অন্যটি পার্ক স্ট্রিট থানার এক সার্জেন্ট। অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরে সরকারি আধিকারিকদের কাজে বাধা দেওয়া এবং তাঁদের মারধর করা হয়েছে। পাশাপাশি, মহিলা পুলিশকর্মীদের হেনস্থা ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগেও মামলা রুজু হয়েছে। বৃহস্পতিবারের ঘটনা প্রসঙ্গে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ বলেন, “পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। যা ঘটেছে, আমরা তা খতিয়ে দেখছি। সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু মেলেনি। ভিডিয়ো ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কলকাতা পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার সুদীপ কুমার বসু শেকসপিয়র সরণি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, হুমায়ুন কবীর, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের কয়েক জন সমর্থকের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা রুজু করেছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় বেআইনি জমায়েত, হিংসা ছড়ানো, অস্ত্রপ্রয়োগ, সরকারি আধিকারিকের কাজে বাধা, মারধর, হুমকি এবং চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে সুদীপ জানিয়েছেন, পুর কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী বুধবার বিকেল তিনটে নাগাদ তিনি ৯, ক্যামাক স্ট্রিটের উপরে ঝুলে থাকা বড় হোর্ডিং খুলতে গিয়েছিলেন। সেই সময় অভিযুক্তেরা কাজে বাধা দেন এবং তাঁকে শারীরিক ভাবে নিগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ। সরকারি আধিকারিক ও পুলিশকর্মীদের কাজেও বাধা দেওয়া হয়। ঘটনায় কয়েক জন আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, পুরসভার যন্ত্রপাতি ছিনিয়ে নেওয়া এবং আধিকারিকদের ভয় দেখানোর অভিযোগও তুলেছেন সুদীপ।

দ্বিতীয় এফআইআরটি দায়ের হয়েছে পার্ক স্ট্রিট থানার সার্জেন্ট সুজিত কুমার মণ্ডলের অভিযোগের ভিত্তিতে। অভিযোগপত্রে তিনি জানিয়েছেন, বিকেল পাঁচটা ১৫ মিনিট নাগাদ ক্যামাক স্ট্রিটে গোলমালের খবর পেয়ে পুলিশবাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোন। সেখানে বিপজ্জনক ভাবে ঝুলে থাকা বিলবোর্ড খুলতে পুরকর্মীরা কাজ করছিলেন। তাঁদের কাজে পুলিশও সহযোগিতা করছিল। অভিযোগ, সেই সময় সিঁড়িতে উঠে পুলিশকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া হয়। সুজিতের কাছ থেকে ওয়াকিটকি ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। এক জনকে আটক করার চেষ্টা করলে অন্যরা পুলিশের উপর হামলা চালান বলে অভিযোগ। ঘটনায় সুজিত নিজে এবং কনস্টেবল অমিতাভ সাহা আহত হন। তাঁদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তৃতীয় এফআইআরেও অভিযুক্ত হিসাবে নাম রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের একাধিক নেতার। অভিযোগ, তাঁরা সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশ ও পুরকর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছেন। এই মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৭৪ নম্বর ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। ওই ধারায় মহিলাদের হেনস্থা ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার মতো অভিযোগের বিষয় রয়েছে। পুলিশের দাবি, বৃহস্পতিবার ক্যামাক স্ট্রিটে মহিলা পুলিশকর্মীদের শ্লীলতাহানির উদ্দেশে অবৈধ ভাবে বলপ্রয়োগ করা হয়েছিল। পাশাপাশি, মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

অন্য দিকে, পুরসভার কর্মীরা বিলবোর্ড খুলে দেওয়ার পর রাতেই সেখানে ফের তৃণমূলের নাম লেখা একটি ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিষেকরা। শুক্রবার এই মামলার শুনানি হতে পারে।


Share