Calcutta High Court

হাই কোর্টের ৩২ হাজার চাকরি বাতিল মামলার রায়কে চ‍্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের শীর্ষ আদালতে, ক‍্যাভিয়েট দাখিল করল পর্যদ

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বজায় রাখার নির্দেশ দেয়। এর আগে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে সমস্ত নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল।

কলকাতা হাই কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:৩২

কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দেওয়া ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বহাল রাখার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বুধবার সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মূল মামলাকারীদের তরফে একটি স্পেশাল লিভ পিটিশন জমা পড়েছে। তাঁদের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির স্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ‘মানবিকতা’র ভিত্তিতে চাকরি বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া আইনসঙ্গত নয়।

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বজায় রাখার নির্দেশ দেয়। এর আগে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে সমস্ত নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে ডিভিশন বেঞ্চ সেই নির্দেশ খারিজ করে জানায়, সামগ্রিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়মের প্রমাণ মেলেনি এবং অল্প কয়েকজনের ত্রুটির জন্য হাজার হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল করা যুক্তিযুক্ত নয়।

সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা পিটিশনে মামলাকারীদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যে দুর্নীতির তথ্যপ্রমাণ রয়েছে, তা উপেক্ষা করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, দুর্নীতির মাধ্যমে প্রাপ্ত চাকরি কোনোভাবেই মানবিকতার যুক্তিতে বহাল রাখা যায় না। উপরন্তু, যখন তদন্ত এখনও চলমান, তখন এই নিয়োগকে বৈধ ঘোষণা করা আইনবিরুদ্ধ।

মামলাটি শীর্ষ আদালতে উঠতে পারে আন্দাজ করেই প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ আগাম ‘ক্যাভিয়েট’ দাখিল করেছে, যাতে তাদের বক্তব্য না শুনে কোনো একতরফা নির্দেশ না দেওয়া হয়।

আইনজীবী মহলের মতে, আগামী সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানি শুরু হতে পারে। ফলে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের ভবিষ্যৎ এখন শীর্ষ আদালতের রায়ের ওপরেই নির্ভর করছে।


Share