OBC Bill

তোষণের রাজনীতি চলবে না', তৃণমূলকে নিশানা গৌরীশঙ্করের, ওবিসি সংরক্ষণে নতুন নিয়ম আনল রাজ‍্য সরকার

সোমবার বিধানসভায় পেশ হওয়া সংশোধনী বিল দুটি হল ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস রিজার্ভেশন অফ ভ্যাকান্সিস ইন সার্ভিসেস অ্যান্ড পোস্ট বিল, ২০২৬’ এবং ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস বিল, ২০২৬’।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ ০৪:৪৮

সোমবার বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনের প্রথমার্ধের শেষ দিন। এ দিন রাজ্যে ওবিসি ও অন্যান্য অনগ্রসর সম্প্রদায়ের সংরক্ষণ সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল বিধানসভায় পাশ হল। বিল দুটি পেশ করেন রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। বিগত তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, “তোষণের জন্যই তৃণমূল জমানায় সংরক্ষণ বাড়ানো হয়। সংখ্যালঘুদের প্রকৃত উন্নয়ন সংক্রান্ত ভাবনা ছিল না বিলে। আগের সরকার বিল নিয়ে কোনও আলোচনা করেনি। সামাজিক সমীক্ষা না করেই বিলে সংশোধনী এনেছিল তৃণমূল সরকার। অনগ্রসর শ্রেণী যাতে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যেই বিল আনা হয়েছে।”

সোমবার বিধানসভায় পেশ হওয়া সংশোধনী বিল দুটি হল ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (আদার দ্যান শিডিউল কাস্ট অ্যান্ড শিডিউল ট্রাইব) রিজার্ভেশন অফ ভ্যাকান্সিস ইন সার্ভিসেস অ্যান্ড পোস্ট (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ এবং ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’।

নতুন সংশোধনী আইনে ২০১২ সালে প্রণীত ওবিসি সংরক্ষণ আইনের ক্যাটেগরি ‘বি’-এর ৭৮টি জনগোষ্ঠীর তালিকাসম্বলিত তফশিল (সিডিউল-১) বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনও সম্প্রদায়ের নাম অনগ্রসর শ্রেণির তালিকায় অন্তর্ভুক্তি বা বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে আপত্তি জানানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।

বিলে বলা হয়েছে, অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করেই রাজ্য সরকার ওবিসি সংরক্ষণের হার নির্ধারণ করবে। সময়ে সময়ে সেই হার পুনর্বিবেচনা করে পরিবর্তন করা যেতে পারে। তবে মোট সংরক্ষণের পরিমাণ কোনওভাবেই ৫০ শতাংশের বেশি হবে না। পাশাপাশি, অনগ্রসরতার মাত্রা অনুযায়ী ওবিসি সম্প্রদায়কে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করে সংরক্ষণ কার্যকর করারও বিধান রাখা হয়েছে।

অন্য দিকে, অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন সংক্রান্ত ১৯৯৩ সালের আইনেও সংশোধন আনা হয়েছে। নতুন আইনে ওবিসি তালিকাভুক্তির জন্য নাগরিকদের সরাসরি আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনও সম্প্রদায়ের অতিরিক্ত বা অপর্যাপ্ত অন্তর্ভুক্তি নিয়ে অভিযোগ জানানো গেলে তা খতিয়ে দেখে কমিশন সরকারকে সুপারিশ করবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকার। কমিশনের সদস্যদের মেয়াদ তিন বছরই বহাল থাকছে। তবে সদস্য-সচিবের মেয়াদ নির্ধারণের ক্ষমতা রাজ্য সরকারের হাতেই থাকবে।

বিলের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিজেপি বিধায়ক অরিজিৎ বক্সীর অভিযোগ, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকার ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির স্বার্থে ওবিসি তালিকা তৈরি করেছিল। অন্য দিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস এবং আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি সংশোধনী বিলের বিরোধিতা করেন।


Share