Golpark Turmoil

গোলপার্কের ঘটনায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪, মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পুর খোঁজে চলছে তল্লাশি

জানা গিয়েছে, ধৃত চারজন হলেন বাবলু সাউ ওরফে চিনি, ইন্দ্রজিৎ মাঝি ওরফে ছোটো বাবু। এরা দুজনেই কসবা থানা এলাকার বাসিন্দা। একই মামলায় অভিযুক্ত জয়ন্ত নস্কর ওরফে সোনু ও দেবাশিস মন্ডল ওরফে ভোটু।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:০৫

কলকাতার গোলপার্কে বোমাবাজি এবং গুলি চালানোর ঘটনায় রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ আরোও চারজনকে গ্রেফতার করল। এই ঘটনায় রবিবার থেকে এখনও পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এখনও অধরা মূল অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু। মূল অভিযুক্তের খোঁজেই পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে।

জানা গিয়েছে, ধৃত চারজন হলেন বাবলু সাউ ওরফে চিনি, ইন্দ্রজিৎ মাঝি ওরফে ছোটো বাবু। এরা দুজনেই কসবা থানা এলাকার বাসিন্দা। একই মামলায় অভিযুক্ত জয়ন্ত নস্কর ওরফে সোনু ও দেবাশিস মন্ডল ওরফে ভোটু। জয়ন্ত আনন্দপুর থানা এলাকার বাসিন্দা এবং দেবাশিস লেক থানা এলাকার বাসিন্দা।

রবিবার রাতে রবীন্দ্র সরোবর থানার অন্তর্গত কাঁকুলিয়া রোডের পঞ্চাননতলা এলাকায় দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘটনায় গুলি চলা ও বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের গাড়ি-সমেত একাধিক বাইক ও বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগও সামনে এসেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ বাহিনী দ্রুত এলাকায় পৌঁছয়। কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার ভোলানাথ পাণ্ডেও ঘটনাস্থলে যান। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ ১০ জনকে গ্রেফতার করে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যা আটটা নাগাদ একটি ক্লাবের পিকনিককে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসা থেকে অশান্তির সূত্রপাত হয়। অভিযোগ, ১০০ থেকে ১৫০ জন দুষ্কৃতী মুখে কাপড় বেঁধে এলাকায় চড়াও হয়। গুলি চালানো, বোমাবাজি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ গুলির খোল ও বোমার সুতলি উদ্ধার করেছে।

এই ঘটনায় অন্তত দু’জন জখম হয়েছেন। জানা গিয়েছে, গণেশ দাস নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সনৎ সিংহ নামে অপর এক জনের মাথায় আঘাত লাগে। তাঁদের দু'জনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পুর দলবল এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। যদিও ধৃতেরা সকলেই ওই দলের সদস্য কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয়দের দাবি, গত বছর গণেশপুজোর সময়ও এলাকায় তাণ্ডবের অভিযোগ উঠেছিল।

ঘটনার পর স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে যান। তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দাদের একাংশ। কাউন্সিলরের দাবি, “পিকনিক নিয়ে গোলমাল হয়েছে। এর আগেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এ বারও যেই অপরাধ করে থাকুক না কেন, তার বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।”


Share