Kolkata Municipal Corporation

বিধানসভা নির্বাচনের আগে কলকাতার হকারদের শংসাপত্র বিলি করার কাজ শুরু করল পুরসভা, এই কাজ থমকে গিয়েছিল পুজোর আগেই

বিধানসভা নির্বাচনের আগে কলকাতার হকারদের শংসাপত্র বিলি করার কাজ শুরু করল পুরসভা, এই কাজ থমকে গিয়েছিল পুজোর আগেই

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৪৪

পুজোর আগে হকারদের শংসাপত্র বিলির কাজ থমকে গেলেও বিধানসভা নির্বাচনের আগে তা আবার শুরু হয়ে গেল। গত বছর অগাস্ট মাসে কলকাতার পুরসভায় অধীনে থাকা হকারদের ডিজিটাল শংসাপত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই কাজ বিভিন্ন জটিলতার কারণে বন্ধ হয়ে যায়। পুরসভার তরফ থেকে বলা হয়েছিল, শুধুমাত্র ৮ হাজার জন হকারদের শংসাপত্র পত্র দিলে বাকিরা বিক্ষোভে নামতে পারেন। কিন্তু ভোটমুখী রাজ্যে ফের সেই শংসাপত্র বিলির কাজ ফের শুরু করল কলকাতা পুরসভা।

বৃহস্পতিবার পুরসভা ভবনের সেন্ট্রাল কনফারেন্স হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৮ জন হকারের হাতে ‘সার্টিফিকেট অব ভেন্ডিং’ (সিওভি) দিল কলকাতা পুরসভা।  উপস্থিত ছিলেন মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার ও স্বপন সমাদ্দার-সহ টাউন ভেন্ডিং কমিটির সদস্যেরা। পরে ধাপে ধাপে কলকাতা পুরসভার অধীনে থাকা আরও হকারদের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হবে। 

কলকাতা পুরসভা সূত্রের খবর, ২০১৫ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী প্রথম ধাপে ৮ হাজার হকারদের এই শংসাপত্র দেওয়া হবে। সেই প্রক্রিয়ার সূচনা হিসেবে প্রথম দফায় হকার্স জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির অন্তর্ভুক্ত আটজনকে শংসাপত্র দেওয়া হল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী আরও ৫৬ হাজার হকারদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। এর পরের সমীক্ষা অনুযায়ী বাকি হকারদের সেই শংসাপত্র তুলে দেওয়ার কাজ শুরু করবে পুরসভা।

পুরসভার দাবি, এই বৈধ শংসাপত্র হাতে পেলে হকারেরা আইনসম্মত ভাবে নিজেদের ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবে। এ ছাড়াও, পুনর্বাসন বা অন্যান্য বিষয়গুলিতেও এই শংসাপত্র কাজে লাগবে। এই বিষয়ে টাউন ভেন্ডিং কমিটির সদস্য তথা জয়েন্ট হকার অ্যাকশন কমিটির নেতা অসিত সাহা বলেন, “স্বীকৃতি না পেলে তাদের কাছ থেকে কোনও দায়িত্বের আশা করা উচিত না। হকারদের স্বার্থেই এই শংসাপত্র বিলি করা হচ্ছে।”

প্রসঙ্গত, শহরে বৈধ ভাবে হকারি করছেন, এমন সাড়ে আট হাজার হকারকে পরিচয়পত্র দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কয়েক মাস আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সমীক্ষায় চিহ্নিত ১৪ হাজার হকারের মধ্যে থেকে নিয়ম মেনে চলা ৮,৭২৭ জনকে প্রথম ধাপে কার্ড দেওয়া হবে।  ২০১৫ সালের তালিকাকে ভিত্তি করে এক বছর আগে ডিজিটাল অ্যাপের মাধ্যমে এই সমীক্ষা শুরু হয়। নথিভুক্ত হন ৫৪ হাজার ১৭৮ জন হকার। কিন্তু হকার সংগঠনের একাংশের দাবি, সেই সমীক্ষা যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য নয়। বহু পুরনো বৈধ হকার বাদ পড়েছেন তালিকা থেকে। ফলে কেবলমাত্র ৮ হাজার ৭২৭ জনকে পরিচয়পত্র বিলি করলে বাকি হাজার হাজার হকার বিক্ষোভে নামবেন।

হাতিবাগান, গড়িয়া ও নিউ মার্কেট চত্বরের বহু হকারকে প্রথম ধাপে কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পুজোর আগে কোনও রকম অশান্তি চাইনি পুরসভা। ফলে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি স্থগিত হয়ে গিয়েছিল।

২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের পর নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শহরের ফুটপাত দখল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর নির্দেশে নতুন করে সমীক্ষা শুরু হয়। সেই সমীক্ষার ফলেই ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু টাউন ভেন্ডিং কমিটির ভিতরেই মতভেদ থাকায় গোটা প্রক্রিয়াটি থমকে গিয়েছিল। রাজ্যে ভোটের দামামা বাজতেই এই শংসাপত্র বিলি করার কাজ আবার শুরু হয়ে গেল।


Share