KMC

পুজোয় মন্ডোপের বাইরে খাবারের স্টলে চলবে নজরদারি, ভেজালের রমরমা রুখতে অভিযান চালাবে কলকাতা পুরসভার

পুজোর সময় ভেজাল, নিম্নমানের খাবার ও বিপজ্জনক রঙের ব্যবহার রুখতে মণ্ডপ সংলগ্ন স্টল, অস্থায়ী দোকান ও ইটারি মিলিয়ে চলবে অভিযান। সেই সব খাবারের গুণমান নিয়ে নজরদারি বাড়াচ্ছে কলকাতা পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ।

কলকাতা পুরসভা
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৫৪

দুর্গাপুজো আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। সেই সময়ে চলে মানুষের বাইরে খাওয়া দাওয়ার ধুম। তাই পুজোর কয়েকটা দিন শহরের বিভিন্ন প্রান্তে খাবারের স্টলের সংখ্যা একলাফে বেড়ে যায়। বড় পুজো মণ্ডপগুলির আশপাশে বসে একের পর এক খাবারের দোকান। আর সেই খাবার কতটা নিরাপদ, তা নিয়েই এ বার নজরদারি বাড়াতে চলেছে কলকাতা পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ।

কিছুদিন আগে শহর জুড়ে কলকাতা পুরসভার তরফে চলেছে খাদ্য সুরক্ষা অভিযান। যেখানে বেশ কিছু নামি দামি রেস্টুরেন্টের খাদ্যের গুনগত মান নিম্নমানের বলে সামনে এসেছে। এবার পুজোর মধ্যেও শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাবেন খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের আধিকারিকেরা। মূলত ভেজাল, অস্বাস্থ্যকর এবং নিম্নমানের খাবারের সন্ধানেই চলবে এই অভিযান। পুজো মণ্ডপ সংলগ্ন খাবারের স্টল থেকে শুরু করে অস্থায়ী দোকান এবং বিভিন্ন ইটারি— সব জায়গাতেই নজর রাখা হবে।

পুরসভার এক উচ্চপদস্থ খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকের কথায়, পুজোর সময় বেশ কিছু খাবারের দোকান বা স্টল অস্থায়ী ভাবে তৈরি হয়। কয়েক দিনের জন্য তৈরি হওয়া এই সব দোকানের একাংশে নিম্নমানের খাবার বিক্রির প্রবণতা দেখা যায়। উৎসবের আনন্দে অনেকেই খাবারের গুণমান নিয়ে বিশেষ খোঁজ না নিয়েই তা খেয়ে ফেলেন।

পুরসভা সূত্রে খবর, পুজোর সময়ে খাবারে বিপজ্জনক রং ব্যবহারের প্রবণতাও বাড়ে। খাবারকে দেখতে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে এক শ্রেণির বিক্রেতা এই ধরনের রং ব্যবহার করেন। বিশেষ করে কিছু বিরিয়ানি দোকান, রেস্তোরাঁ এবং মিষ্টির দোকানে এমন অভিযোগ বেশি সামনে আসে। শুধু ভেজাল নয়, বেশি মুনাফার আশায় বাসি বা পচা খাবার বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের আধিকারিকরা এই বিষয়টিও অভিযানের সময়ে খতিয়ে দেখবেন।

পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত এক প্রবীণ চিকিৎসকের মতে, পুজোর সময়ে নিম্নমানের খাবার খাওয়ার কারণে উৎসবের পর শহরের বহু মানুষ পেটের সমস্যায় ভোগেন। সেই কারণেই পুজোর সময় খাবারের মান নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি বলে মনে করছেন পুরসভার আধিকারিকরা।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর পুজোর সময়ে কলকাতা পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ মোট ৩৩৬৩টি খাবারের নমুনা সংগ্রহ করেছিল। তার মধ্যে ২০০-র বেশি নমুনা নিম্নমানের বলে ধরা পড়ে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এ বারও পুজোর সময়ে খাবারের দোকান ও স্টলগুলির উপর নজরদারি চালানো হবে।


Share