Kolkata Municipal Corporation

নির্বাচনের আগে সম্পত্তি করের সুদ-জরিমানা মকুবে করতে ‘ওয়েভার স্কিম’ আনছে কলকাতা পুরসভা, পুজোর মুখে কলকাতাবাসীর স্বস্তি মিললেও ঘাটতি কীভাবে মিটবে? উঠছে প্রশ্ন

গেজেট প্রকাশের পর ছয় মাস এই সুবিধা মিলবে। প্রায় ৬,৮৫৪ কোটি টাকার বকেয়া সম্পত্তি করের মধ্যে আদায়যোগ্য প্রায় ২,১৩২ কোটি টাকা উদ্ধারের লক্ষ্য পুরসভার।

পুর প্রশাসক স্মিতা পান্ডে
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫০

বকেয়া সম্পত্তি করের ওপর সুদ ও জরিমানা মকুব করতে নতুন ওয়েভার স্কিম আনতে চলেছে কলকাতা পুরসভা। ‘কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন ইনসেনটিভ (ওয়েভার অব ইন্টারেস্ট অ্যান্ড পেনাল্টি টু দ্য প্রপার্টি ট্যাক্সপেয়ার্স) স্কিম, ২০২৬’-এর প্রস্তাবে রাজ্য সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন মিলেছে বলে পুরসভা সূত্রে খবর। খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে পারে। পুজোর মুখে কলকাতাবাসীর জন্য স্বস্তির খবর হলেও এই বিপুল পরিমাণ টাকার ঘাটতি কী ভাবে পূরণ হবে তা নিয়ে স্পষ্ট কিছু জানায়নি কলকাতা পুরসভা। 

নতুন এই স্কিমের আওতায় বকেয়া কর মেটালে একাধিক ক্ষেত্রে করদাতারা বিপুল ছাড় পাবেন। আবাসিক সম্পত্তির ক্ষেত্রে সুদ এবং জরিমানা—দুই ক্ষেত্রেই মিলবে ১০০ শতাংশ ছাড়। আবাসিক ও বাণিজ্যিক, দু’ধরনের কাজে ব্যবহৃত সম্পত্তির ক্ষেত্রে সুদে ৮০ শতাংশ এবং জরিমানা আদায়ে ৯৯ শতাংশ ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পত্তির ক্ষেত্রে সুদে ৭০ শতাংশ এবং জরিমানাতে ৯৯ শতাংশ ছাড় মিলবে।

শুধু ব্যক্তিগত বাড়ি বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, সরকারি, বেসরকারি এবং সরকারি সংস্থার মালিকানাধীন সম্পত্তিও এই ওয়েভার স্কিমের আওতায় আসবে বলে জানা গিয়েছে।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ছ’মাস পর্যন্ত এই সুবিধা পাওয়া যাবে। এককালীন বকেয়া কর মেটানোর পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কিস্তিতেও কর পরিশোধের সুযোগ থাকবে। অনলাইন এবং অফলাইন— দু’টি পদ্ধতিতেই আবেদন করা যাবে। এমনকী, কিউআর কোডের মাধ্যমেও আবেদন ও টাকা জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কলকাতা পুরসভা।

কেন এই মুহূর্তে এই উদ্যোগ? পুরসভা সূত্রে খবর, বর্তমানে সম্পত্তি কর সংক্রান্ত ৩ লক্ষ ৮৬ হাজার ২৮৮টি আবেদন রয়েছে। মোট বকেয়া সম্পত্তি করের পরিমাণ প্রায় ৬,৮৫৪.২৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ২,১৩২.৬১ কোটি টাকা আদায়যোগ্য বলে জানা গিয়েছে। নতুন স্কিমের মাধ্যমে সেই বকেয়া টাকার বড় অংশ আদায়ের লক্ষ্য নিয়েছে পুর প্রশাসন। এ ভাবে যে ছাড় দেওয়া হচ্ছে, সেই টাকা কীভাবে অন‍্য জায়গায় থেকে আদায় করা করবে, কোষাগারে ঘাটতি কীভাবে মিটবে তা নিয়ে কোনও পরিকল্পনা নেই বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করেছে।

কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডের দাবি, এই স্কিমের ফলে পুরসভার আয় প্রায় ৭০০ থেকে ৭৮৪ কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর আগে একই ধরনের ওয়েভার স্কিম চালু করেছিল কলকাতা পুরসভা। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হওয়ায় সেই সুবিধা বন্ধ হয়ে যায়। এ বার ফের নতুন করে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আর কলকাতা পুরসভার নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

পুর প্রশাসনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ওয়েবসাইট বা সার্ভারের সমস্যার কারণে অতীতে যাঁরা সময় মতো সম্পত্তি কর জমা দিতে পারেননি, তাঁদের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে করদাতাদের কোনও সমস্যা হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে কলকাতা পুরসভা।

সূত্রের খবর, নতুন স্কিমের মেয়াদ আপাতত ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত থাকবে। পরবর্তী সময়ে মেয়াদ বাড়ানো হলে ছাড়ের সুবিধাও বহাল থাকবে। অর্থাৎ পুজোর আগে বকেয়া সম্পত্তি কর মেটানোর সুযোগ তৈরি করে দিয়ে একদিকে নাগরিকদের স্বস্তি, অন্য দিকে পুরসভার কোষাগার ভরানোর লক্ষ্য— দু’দিকেই নজর রাখছে কলকাতা পুরসভা।


Share