Calcutta High Court

সরকারপোষিত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা কি বকেয়া ডিএ পাবেন? অবস্থান জানাতে রাজ্যকে নির্দেশ হাই কোর্টের

শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানায়, সরকারপোষিত স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে রাজ্যকে নিজেদের অবস্থান জানাতে হবে। আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে লিখিত ভাবে সেই রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২১ আগস্ট ২০২৬ ০৩:২৪

রাজ্য সরকারপোষিত স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা (ডিএ) পাবেন কি না, তা স্পষ্ট করতে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্যকে এ বিষয়ে লিখিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গ সরকার জানিয়েছিল, রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র ৬৫ শতাংশ ইতিমধ্যেই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ, এখনও বহু কর্মী বকেয়া ডিএ পাননি। তার মধ্যেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে সরকারপোষিত স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে। অভিযোগ, সরকারি কর্মীদের একাংশের বকেয়া ডিএ মেটানো হলেও সরকারপোষিত স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা এখনও সেই সুবিধা পাননি। ফলে তাঁরা আদৌ বকেয়া ডিএ পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক সংগঠন এবিটিএ কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়। সংগঠনের হয়ে আইনজীবী ফিরদৌস শামিম আদালতে সওয়াল করেন। শুক্রবার বিচারপতি অমৃতা সিংহের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানায়, সরকারপোষিত স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে রাজ্যকে নিজেদের অবস্থান জানাতে হবে। আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে লিখিত ভাবে সেই রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকার জানিয়েছিল, সরকারি কর্মী, সরকারপোষিত কর্মী এবং পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিএ মেটাতে মোট প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। এর মধ্যে সরকারি কর্মীদের জন্য ১১ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা, সরকারপোষিত কর্মীদের জন্য ১৮ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা এবং পেনশনভোগীদের জন্য ১১ হাজার ৬১১ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছিল। তবে মামলাকারীদের অভিযোগ, এখনও তাঁরা বকেয়া ডিএ-র টাকা পাননি। এই পরিস্থিতিতে আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বকেয়া ডিএ নিয়ে রাজ্যকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে কলকাতা হাই কোর্ট আদালতে জানাতে নির্দেশ দিয়েছে।

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে মহার্ঘ্য ভাতার কিছু অংশ পেলেও সরকারপোষিত এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষকরা এক টাকাও পাননি। সম্প্রতি ফের এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।’’

গত ১৮ অগস্ট ডিএ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের বেঞ্চে রাজ্য সরকার জানিয়েছিল, সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ ৬৫ শতাংশ ইতিমধ্যেই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ডিএ দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে বলে আদালতকে জানানো হয়। রাজ্যের দাবি, এখনও পর্যন্ত বকেয়া ডিএ মেটাতে সাত হাজার ৭০০ কোটি টাকারও বেশি খরচ হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ-র পুরো টাকাই মিটিয়ে দিতে হবে। মূল রায়ে আদালত বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। বাকি ৭৫ শতাংশ কী ভাবে ধাপে ধাপে মেটানো যায়, যাতে সরকারের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে, তা খতিয়ে দেখতে একটি মনিটরিং কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। সম্প্রতি সেই মনিটরিং কমিটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে। পাশাপাশি, বকেয়া ডিএ মেটানোর জন্য রাজ্য সরকারকে সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে তারা। কমিটির নির্দেশ, যাঁদের ই-সার্ভিস বুক ইতিমধ্যে স্ক্যান করে আপলোড করা হয়েছে, তাঁদের ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি মিটিয়ে দিতে হবে। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ৬৪ হাজার ৭৫৯ জন কর্মীর ই-সার্ভিস বুক স্ক্যান করে আপলোড করা হয়েছে। এই কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি আগামী ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মনিটরিং কমিটি মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।


Share