NEET Paper Leak

ধর্মতলায় অশান্তির ঘটনায় শহর জুড়ে চলছে ধরপাকড়, গ্রেফতার ১১ জন ‘শুক্রবারি’, রবিবার হাজির করানো হবে আদালতে

পুলিশ সূত্রের খবর, ঘটনার পর থেকেই আফরোজ বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। তাকে শনিবার বিকেলে পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডাল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আফরোজকে কলকাতায় আনা হচ্ছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ ১০:০৬

আন্দোলনের নামে শহরের রাস্তায় গুন্ডামি, অশান্তি ছড়ানো এবং সাংবাদিকদের মারধরের অভিযোগে পদক্ষেপ করল পুলিশ। ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ন’জনকে আটক করে হেয়ার স্ট্রিট থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে ১১ জন ‘শুক্রবারি’-কে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

ধৃত দুই ‘শুক্রবারি’-র নাম মহম্মদ আফরোজ এবং আরশাদ আলি ওরফে সাজিদ। মহম্মদ আফরোজ আদতে মেটিয়াবুরুজের রাজাবাগান এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার পরে বেশ কিছু ভিডিয়ো বিশ্লেষণ করে তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাংবাদিক নিগ্রহের ভিডিয়ো নিজেই শেয়ার করেছিল আফরোজ। আফরোজের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। একাধিক অভিযোগ থানায় থাকা সত্ত্বেও তৃণমূল জমানায় তারে ধরতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ সূত্রের খবর, ঘটনার পর থেকেই আফরোজ বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। তাকে শনিবার বিকেলে পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডাল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আফরোজকে কলকাতায় আনা হচ্ছে। এর সঙ্গে মহম্মদ আজাদকে অন্ডাল থেকে গ্রেফতার করে আনা হচ্ছে। এই আফরোজের কথাই এ দিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছিলেন।

অন‍্য দিকে, আরশাদ আলিকে নিজের বাড়ি থেকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবিতে প্রকাশ্যে জুতো মারছেন। প্রকাশ্যে এই কর্মকান্ডের ফলে এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করেছে। আরশাদ আমহার্স্ট স্ট্রিটের পাটোয়ার বাগান এলাকার বাসিন্দা। তাকে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে দায়ের হওয়া মামলায় প্রেক্ষিতে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার ধৃতদের কলকাতার নগর দায়রা আদালতে হাজির করানো হবে।

এ ছাড়াও, আরও আট জনকে থানায় তুলে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর পরে তাদেরকেও গ্রেফতার করা হয়। এই নিয়ে মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হল। তাদের নাম ইরফান খুরশিদ (জোড়াসাঁকো), মহম্মদ মইনুদ্দিন (তিলজলা), মহম্মদ আলমগির (জোড়াসাঁকো), ইমরান আহমেদ (জোড়াসাঁকো), খালিদ রাজা ওরফে রিঙ্কু (জোড়াসাঁকো), জমির আহমেদ ওরফে মিঙ্কু (বেনিয়াপুকুর), মহসিন খান (বেকবাগান), দীপক ভৌমিক ওরফে ভিকি (কড়েয়া)।

কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) জানিয়েছেন, “ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধর্মতলায় হিংসা ছড়ানো এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় এদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে কেউই ছাত্র নয়। অশান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্য নিয়েই মিছিলে যোগ দিয়েছিল।”

উল্লেখ্য, শনিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানিয়েছেন, হেয়ার স্ট্রিট থানায় ছ’টি মামলা দায়ের হয়েছে। একটি মামলা এন্টালি থানায় রুজু হয়েছে। একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয়দের বিরুদ্ধে মোট সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আপাতত ৭০ জন ‘শুক্রবারি’-কে পুলিশ চিহ্নিত করেছে। এদের মধ্যে চারজন ‘দাগী দুষ্কৃতী’ রয়েছে বলে জানান তিনি। এদের মধ্যে কেউ ছাত্র নন। নিটের সঙ্গে এদের কোনও যোগাযোগ নেই। বলেন, “রাজাবাগানের আফরোজ, খিদিরপুরের নাহিদ, একবালপুরের তানবির ও নিজাম, ওয়াটগঞ্জের রাহুল জামাল। এরা পাঁচটিই দাগী দুষ্কৃতী। গুন্ডা দমন আইন সেই কারণেই আনা হয়েছে। এমন ব‍্যবস্থা নেব, একদিন নয়, তিন পুরুষ মনে রাখবে। এই আইনের কতটা প্রয়োজনীয়তা ছিল, এ বার মানুষ তা বুঝতে পারবে।”

শুক্রবার রাতেই আক্রান্ত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, এই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিটের কোনও সম্পর্ক নেই। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর বক্তব্য, আগের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (যিনি ভবানীপুরে হেরেছেন) বারবার ‘শুক্রবার’ শব্দ ব্যবহার করেছেন। মমতা মনে করতেন, শুক্রবার ওরা (মুসমানেরা) একটু আন্দোলন করেই থাকে। ইসলাম ধর্মে শুক্রবারকে জুম্মাবার হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই এ দিন সাংবাদিকেরা আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি দুষ্কৃতীদের ‘শুক্রবারি’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সবকটাকে চিহ্নিত করেছি। মার্ক করেছি। আমি আপনাকে বলছি। ‘শুক্রবারি’-রা যারা এ সব করেছে তারা চিহ্নিত হয়ে গিয়েছে। কয়েকটা দিন আপনারা অপেক্ষা করুন। এদের কী করতে হয় তা আমি জানি।”


Share