Taratala Incident

তারাতলা ঘটনা ‘তৃণমূলের পাপ’, ভাঙা গুদামের নকশায় ফিরহাদ হাকিমের সই, কাউকে রেয়াত নয়, স্পষ্ট বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “কলকাতা পুরসভা কী হয়েছিল সব জানি। সব কাগজ বের করেছি। গোটাটাই ত্রুটিপূর্ণ নকশা। এ রকম কত করে রেখেছেন জানা নেই।”

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ ০২:১৩

তৃণমূল জমানায় কলকাতা শহর মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল। তারাতলার গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনা ‘তৃণমূলের পাপ’। বিধানসভার ভাষণে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম ও তাঁর ঘনিষ্ঠ কালী বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, জানুয়ারি মাসে তারাতলার গুদাম তৈরির প্ল‍্যানে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তিনি কলকাতা পুরসভা থেকে সমস্ত কাগজপত্র সংগ্রহ করে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, ওই গুদামের প্ল‍্যানে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সই রয়েছে। তারাতলার গুদাম ভেঙে ভয়াবহ দুর্ঘটনার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, টাকার বিনিময়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে ‘তৃণমূলের পাপের ফল’ বলেও কটাক্ষ করেছেন রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। টাকা নিয়ে এমন বিপজ্জনক বাড়ি বা গুদাম তৈরি করার অনুমোদন দেওয়ায় তৃণমূল কলকাতা শহর এবং এর আশপাশের এলাকাকে ‘মৃত্যুপুরী’-তে পরিণত করেছে বলেও জানান তিনি।

এ দিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ওই গুদাম সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র দেখিয়ে কোন কোন ইঞ্জিনিয়ারদের সই রয়েছে তা-ও জানান। তিনি জানান, সাব-অ‍্যাসিস্টান্ট ইঞ্জিনিয়ার আমিনুর শেখ, অ‍্যাসিস্টান্ট ইঞ্জিনিয়া নির্মলেন্দু সর্দার, এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার রঞ্জন দাসের নাম রয়েছে। তাঁরা কেউই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেননি।

ঘটনায় পরে পুলিশ যে কড়া পদক্ষেপ করেছে তা নিয়েও জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনায় পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় যেমন শম্ভুনাথ বেহরাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তেমনি আব্বুল হামিদ বলে পুরসভার এক দালালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সূত্রের খবর, আবুল হামিদ স্থানীয় তৃণমূলের কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ। তিনিই ওই এলাকায় টাকা তোলার কাজ করে। গ্রেফতার করা হয়েছে মহম্মদ গুলজারকে। এই গুলজার আসগর হোসেনের ঘনিষ্ঠ। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আশাকরি আসগরকে খুঁজে বের করব। যদি ধ্বংসস্তূপে চাপা পরে থাকে সেটা আলাদা। এ সব লোকেদের ধরা প্রয়োজন রয়েছে।”

এর পরেই কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করেন। তৃণমূল জমানায় পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি ছিলেন। তৃণমূল জমানায় পুরসভায় কান পাতলে কালীর কতটা প্রভাবশালী তা শোনা যেত। সেই কালীর নামেই অভিযোগ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ দিন জানান, কালীকে গ্রেফতার করলেই বেরিয়ে যাবে। কালীর কথা ছাড়া কোনও প্ল‍্যান অনুমোদন হয় না। তৃণমূল কর্মী কালীকে পুরসভায় ক‍্যামাক স্ট্রিট বসিয়েছিল। ধাপার কাছে ২০০ কোটি টাকা দিয়ে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় তৈরি হচ্ছে। পুরসভা থেকে টাকা তুলে কালী সেখানে পাঠাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, “কলকাতা পুরসভা কী হয়েছিল সব জানি। সব কাগজ বের করেছি। গোটাটাই ত্রুটিপূর্ণ নকশা। এ রকম কত করে রেখেছেন জানা নেই।”


Share