Medical Scam

স্বাস্থ্য সাথীর তালিকায় ৩০ লক্ষেরও বেশি উপভোক্তার হদিস নেই! ২৫ হাজার কোটি টাকা খরচ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন, রেশন কার্ডেও লক্ষ লক্ষ সন্দেহজনক নাম

তাঁদের পিছনে ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি সরকারি অর্থ খরচ হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের শীর্ষ মহলে। যদিও প্রকৃত উপভোক্তার সংখ্যা এবং আর্থিক অনিয়মের পরিমাণ এখনও নিশ্চিত নয়। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মুখ্যসচিব মমনোজকুমার আগরওয়াল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৪৩

পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর আগের সরকারের আমলে চালু হওয়া বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে একের পর এক অসঙ্গতি সামনে আসছে বলে দাবি বর্তমান রাজ্য সরকারের। এ বার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালু করা স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের উপভোক্তাদের তালিকা ঘিরে উঠল বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ। সরকারি সূত্রের দাবি, প্রকল্পের আওতায় নথিভুক্ত ৩০ লক্ষেরও বেশি উপভোক্তার কোনও হদিস মিলছে না। তাঁদের পিছনে ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি সরকারি অর্থ খরচ হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের শীর্ষ মহলে। যদিও প্রকৃত উপভোক্তার সংখ্যা এবং আর্থিক অনিয়মের পরিমাণ এখনও নিশ্চিত নয়। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সঙ্গে স্বাস্থ্য সাথীর উপভোক্তাদের যুক্ত করার উদ্যোগ শুরু হতেই এই অসঙ্গতি সামনে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। সেই সূত্রেই স্বাস্থ্য সাথী কার্ডধারীদের তথ্য যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনের তরফে বাড়ি বাড়ি গিয়ে উপভোক্তাদের পরিচয় ও বর্তমান ঠিকানা যাচাই করা হচ্ছে। যাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না, তাঁদের নথি ও অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট উপভোক্তাদের খোঁজ না মেলার পিছনে ঠিকানা পরিবর্তন, তথ্যগত ভুল নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বৃহস্পতিবার নবান্নে নিজের দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল জানান, স্বাস্থ্য সাথী কার্ডধারীদের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় আনার প্রক্রিয়ায় প্রায় ২৫ লক্ষ উপভোক্তার কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের পরিচয় ও বর্তমান ঠিকানা নিশ্চিত করতে যাচাই চলছে। শুধু স্বাস্থ্য সাথী নয়, আগের সরকারের আমলে চালু হওয়া অন্যান্য সরকারি প্রকল্পেও বিপুল সংখ্যক সন্দেহজনক উপভোক্তার সন্ধান মিলেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের পাশাপাশি রাজ্য সরকার রেশন কার্ডের তথ্যও নতুন করে খতিয়ে দেখছে। মুখ্যসচিবের দাবি, যাচাইয়ের সময় লক্ষ লক্ষ সন্দেহজনক রেশন কার্ডের সন্ধান মিলেছে। সংশ্লিষ্ট কার্ডগুলির বৈধতা এবং উপভোক্তাদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত প্রাপকদের কাছেই পৌঁছোয়, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য সাথী ও রেশন কার্ডের তালিকায় এত বিপুল সংখ্যক সন্দেহজনক উপভোক্তার সন্ধান ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। তবে তালিকায় নামের অসঙ্গতি থাকলেই যে তা জালিয়াতি, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছোনোর সময় এখনও আসেনি। কতগুলি কার্ডে প্রকৃত অনিয়ম রয়েছে, কত টাকা বেআইনিভাবে খরচ হয়েছে এবং এই ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে কি না, তা নির্ভর করছে তদন্তের ফলাফলের উপর। যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হলেই প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।


Share