Prasanta Burman

স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনে নিউটাউনের বাড়িতে ফের সিট-এসটিএফ-ফরেনসিকের তল্লাশি, মিলল নতুন নমুনা

অভিযোগে জানানো হয়, ২৮ অক্টোবর দু’টি গাড়িতে করে পাঁচ থেকে ছয়জন ব্যক্তি সল্টলেকের দত্তাবাদের একটি সোনার দোকানে এসে স্বপন কামিল্যাকে জোর করে তুলে নিয়ে নিউটাউনের একটি বাড়িতে নিয়ে যায়।

(বাঁ দিকে) অভিযুক্ত রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন। নিউটাউনের সেই বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬ ০৫:০৭

দত্তাবাদের স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের তদন্তে ফের সক্রিয় হয়েছে পুলিশ-প্রশাসন। এই মামলায় ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে বিধাননগর পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিধাননগর পুলিশ, রাজ্য পুলিশের এসটিএফ, সাইবার ক্রাইম শাখা এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের দল নিউটাউনের সংশ্লিষ্ট বাড়িতে গিয়ে পুনরায় নমুনা সংগ্রহ করে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ওই বাড়িতেই স্বপন কামিল্যাকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৯ অক্টোবর নিউটাউনের যাত্রাগাছি খালপাড় এলাকা থেকে স্বপন কামিল্যার দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর ৩১ অক্টোবর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে খুন, অপহরণ এবং চুরির অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে জানানো হয়, ২৮ অক্টোবর দু’টি গাড়িতে করে পাঁচ থেকে ছয়জন ব্যক্তি সল্টলেকের দত্তাবাদের একটি সোনার দোকানে এসে স্বপন কামিল্যাকে জোর করে তুলে নিয়ে নিউটাউনের একটি বাড়িতে নিয়ে যায়।

দত্তাবাদের বাড়ির মালিক গোবিন্দ বাগ সংবাদমাধ্যমের সামনে দাবি করেছিলেন, নিউটাউনের ওই বাড়িতেই স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। একই দাবি করেন ওই বাড়ির প্রাক্তন কর্মী অশোক করও। তাঁর বক্তব্য, তিনি যখন বাড়িতে গিয়েছিলেন, তখন সেখানে স্বপন কামিল্যাকে দেখেছিলেন।

পুলিশের দাবি, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে যে স্বপন কামিল্যাকে মারধর করা হয়েছিল। অভিযোগে উঠে এসেছে, এই ঘটনায় জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের তৎকালীন বিডিও প্রশান্ত বর্মনের নামও জড়িত। তদন্তে নেমে পুলিশ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করলেও মূল অভিযুক্ত হিসেবে অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মন অধরাই থেকে যান। মামলা দায়েরের পর প্রথমে বারাসত জেলা ও দায়রা আদালত থেকে আগাম জামিন পান প্রশান্ত বর্মন। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বিধাননগর পুলিশ কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়। হাই কোর্ট তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। পরে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গেলেও সেখান থেকেও আত্মসমর্পণের নির্দেশই বহাল থাকে। তবে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশের পরও তিনি আত্মসমর্পণ করেননি।

অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার হলেও পরে জামিন পান প্রশান্ত। গত মে মাসে নিউটাউনে মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে এক পথচারীকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে অপসারিত বিডিওর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় তাঁকে গ্রেফতার করা হলেও বারাসত আদালতে পেশের পর জামিন মঞ্জুর হয়।


Share