Suvendu Adhikari

পালাবদলের ১৫০ দিন! শুভেন্দু রাজত্বে রাজ্যে কী কী বদলাল, কোথায় কোথায় রয়ে গেল পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন?

১৫০ দিনে বিজেপি সরকারের দাবি, কল্যাণমূলক প্রকল্প, কেন্দ্রীয় প্রকল্প, শিল্প ও পরিকাঠামোয় গতি এসেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও তৃণমূলীকরণ নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন এখনও রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:২২

পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পর কেটে গিয়েছে ১৫০ দিন। ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে ৪ মে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার। ‘এ বার আসল পরিবর্তন’-এর প্রতিশ্রুতি নিয়ে নবান্নে আসার পর পাঁচ মাসে একাধিক ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগের দাবি করেছে সরকার। তবে ১৫০ দিন পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন-শুধু প্রশাসনের মুখ বদলেছে, নাকি বদলেছে শাসনের ধরনও?

সরকারের অন্যতম বড় দাবি, আগের সরকারের আমলে আটকে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। পাশাপাশি রাজ্যের কল্যাণমূলক প্রকল্পেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। লক্ষ্মীর ভান্ডারের পরিবর্তে চালু হয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনা। সরকারের দাবি অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি যোগ্য মহিলারা ডিবিটির মাধ্যমে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে পাচ্ছেন। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় দেড় কোটি মহিলা চতুর্থ কিস্তির টাকা পেয়েছেন বলেও দাবি সরকারের। যদিও এখনও বেশ কিছু যোগ্য প্রাপক টাকা পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও গতি আনার দাবি করা হয়েছে। চিংড়িহাটা মোড়ের যানজট কমাতে উদ্যোগ, সীমান্ত এলাকায় BSF-কে জমি দেওয়া এবং সূর্য ঘর যোজনার মতো প্রকল্প চালুর কথা সামনে এসেছে।

শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা রয়েছে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৩টি শিল্প প্রকল্পের জন্য জমি বরাদ্দ হয়েছে বলে সরকারের দাবি। সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৬২ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। আমুলের ৭০০ কোটি টাকার দুগ্ধ প্রকল্প এবং ডানকুনিতে লাক্স কোজির ৬০০ কোটি টাকার সম্প্রসারণও উল্লেখযোগ্য।

পরিকাঠামো ক্ষেত্রেও ওয়াটার মেট্রো, আন্তঃনগর মেট্রো, বাস পরিষেবা সম্প্রসারণ এবং কল্যাণীতে গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর নিয়ে পরিকল্পনা সামনে এসেছে।

তবে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিজেপির দাবি, তোলাবাজি বন্ধ হয়েছে এবং দুর্নীতির অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা এবং বিরোধী দলগুলির কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ সরকারের সামনে অস্বস্তি তৈরি করেছে।

এর পাশাপাশি বিজেপির ‘তৃণমূলীকরণ’ নিয়েও দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি। যদিও বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা এই অভিযোগ খারিজ করে জানিয়েছেন, ৪ মে-তেই তৃণমূল থেকে আসার দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ, ১৫০ দিনে বদলের একাধিক দাবি সামনে এলেও, সেই পরিবর্তন কতটা স্থায়ী এবং সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলেছে-তার উত্তর মিলবে আগামী দিনেই।


Share