Mid-day Meal

কলকাতায় ইসকনের হাতে মিড-ডে মিলের সূচনা, তিন মাসে আড়াই লক্ষ পড়ুয়ার কাছে পৌঁছোবে পরিষেবা, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

এ দিন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, কোনও রাঁধুনিকে কাজ হারাতে হবে না। রান্না ও খাবার বিতরণের কাজে তাঁদের ইসকনের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০১ আগস্ট ২০২৬ ০৭:২৭

শনিবার থেকে সরকারি স্কুল গুলিতে মিড-ডে- মিলের দায়িত্ব ইসকনের পালন করার কথা ছিল। সেই মতোই কলকাতার তারাতলায় শনিবার ইসকনের সেন্ট্রাল কিচেন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মিড-ডে মিল প্রকল্পের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে কলকাতা পুরসভার অন্তর্গত প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চ প্রাথমিক স্তরের প্রায় আড়াই লক্ষ পড়ুয়ার কাছে এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রথম দিনে শহরের প্রায় ৫০০টি স্কুলের ৪৪ হাজার পড়ুয়ার জন্য ইসকনের রান্না করা মিড-ডে মিল পাঠানো হয়।

মুখ্যমন্ত্রী এ দিন মিড-ডে মিলের রাঁধুনিদের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশ্বাস দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, কোনও রাঁধুনিকে কাজ হারাতে হবে না। রান্না ও খাবার বিতরণের কাজে তাঁদের ইসকনের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি অগস্ট মাস থেকেই তাঁদের মাসিক তিন হাজার টাকা করে বেতন দেওয়া হবে বলেও তিনি ঘোষণা করেন। এক মাস আগে রাঁধুনিদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এক মাস আগে মিড-ডে মিলের রাঁধুনিদের নিয়ে একটি মিছিল দেখেছিলাম। কিছু বলিনি। সেই মিছিলকারীদের উদ্দেশে বলি, এক জন রাঁধুনি দিদিও কর্মচ্যুত হবেন না। রান্না এবং মিড-ডে মিল বিতরণ প্রক্রিয়া তাঁদের জুড়ে দেওয়া হবে।’’

এ দিন মুখ্যমন্ত্রী ইসকনের সেন্ট্রাল কিচেনে পৌঁছে প্রথমে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরে রান্নাঘর ঘুরে দেখেন। প্রতীকীভাবে মিড-ডে মিল তৈরির কাজেও অংশগ্রহণ করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল এবং স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। তাঁরা রান্নার সম্পূর্ণ ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাঁচটি স্কুলের ৪০ জন পড়ুয়াও উপস্থিত ছিল। একই অনুষ্ঠানে মিড-ডে মিল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়িরও উদ্বোধন করা হয়।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইসকনের আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন রান্নাঘর থেকে খাদ্য নিরাপত্তার সমস্ত নিয়ম মেনে প্রতিদিন স্কুলগুলিতে খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে পড়ুয়াদের মানসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি উন্নত খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

মিড-ডে মিলের দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। বিশেষ করে পড়ুয়াদের খাবারের তালিকায় ডিম থাকবে কি না, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। এ দিন মুখ্যমন্ত্রী সেই বিতর্কেরও জবাব দেন। তিনি জানান, সপ্তাহে দু'দিন পড়ুয়াদের ডিম দেওয়া হবে। ডিম সম্পূর্ণ তুলে দেওয়ার কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

বিষয়টি নিয়ে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোনও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে মন্তব্য করার আগে সরকার বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছ থেকে প্রকৃত তথ্য জেনে নেওয়া উচিত ছিল। তাঁর বক্তব্য, না জেনেই বিষয়টি নিয়ে অযথা বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মিড-ডে মিল ব্যবস্থার উন্নয়নের কথা জানানো হয়েছিল। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই প্রথম পর্যায়ে কলকাতার সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলগুলিতে ইসকনের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ শুরু হল। এই পাইলট প্রকল্পের সাফল্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও একই ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।


Share