DA Case At Supreme Court

৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া ২৫ মহার্ঘভাতা দিতে হবে, বাকি ৭৫ শতাংশ নিয়ে চার সদস্যের কমিটি গঠন করে দিল দেশের শীর্ষ আদালত

বকেয়া ডিএ নিয়ে নিজেদের পুরনো অবস্থানেই অনড় রইল সুপ্রিম কোর্ট। গত বছর ১৬ মে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ রাজ্যেকে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়।

রায়ের পরে আনন্দে মাতলেন সরকারি কর্মীরা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:৪১

মহার্ঘভাতা মামলায় সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেল রাজ‍্য সরকার। বৃহস্পতিবার দেশের শীর্ষ আদালতের এই মামলায় রায়দান করেছে। আদালত বকেয়া মহার্ঘভাতার কিছুটা মিটিয়ে দেওয়ার সময় বেধে দিয়েছে। বাকি বকেয়া কীভাবে দেওয়া যায় তার জন্য চার সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছে।

গত বছর ৮ সেপ্টেম্বর আদালতে ডিএ মামলার শুনানিপর্ব শেষ হয়েছিল। দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শুনে দেশের শীর্ষ আদালত রাজ্য সরকার এবং রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের তিন সপ্তাহের মধ্যে লিখিত বক্তব্য জমা দিতে বলেছিল। বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের বেঞ্চ মামলার রায় ঘোষণা করেছেন।

অতীতের রাজ‍্যের দাবি নস্যাৎ করে দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট রায়ে জানিয়েছে, রোপা রুল অনুযায়ী মহার্ঘভাতা রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অধিকার। পুরনো রায়ই বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানায়, বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে। ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। সেই টাকা দেওয়েছে কি না তা আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে শীর্ষ আদালতে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে।

২৫ শতাংশ দেওয়ার পরেও বকেয়া ডিএ-র আরও ৭৫ শতাংশ বাকি থাকবে। সেই বকেয়া নিয়ে চার সদস‍্যের কমিটি তৈরি করে দিয়েছে বিচারপতি সঞ্জয় করোলের বেঞ্চ। এই কমিটিতে রয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্র, হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি তারলোক সিং চৌহান ও গৌতম ভাদুড়ী এবং ক‍্যাগের সিনিয়র আধিকারিক। সদস্যের কমিটিই সিদ্ধান্ত নেবে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, বকেয়া কী ভাবে, কতগুলি কিস্তিতে দিতে হবে সে বিষয়ে তারা যে সিদ্ধান্ত নেবে রাজ‍্যে সরকারকে তা মেনে চলতে হবে।

বকেয়া ডিএ নিয়ে নিজেদের পুরনো অবস্থানেই অনড় রইল সুপ্রিম কোর্ট। গত বছর ১৬ মে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ রাজ্যেকে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। সুপ্রিম কোর্ট প্রথমে জানিয়েছিল, বকেয়া ডিএ-র ৫০ শতাংশ দিয়ে দিতে হবে রাজ্যকে। কিন্তু রাজ্যের তরফে আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি জানান, ৫০ শতাংশ বকেয়া ডিএ দেওয়া এখনই সম্ভব নয়। রাজ‍্যের কেমোর ভেঙে যাবে। রাজ্য চালানো যাবে না। তখন আদালত জানায়, অন্তত ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ ছয় সপ্তাহের মধ্যে দিতেই হবে রাজ্য সরকারকে।

কিন্তু ওই সময়সীমার মধ্যে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দিতে পারেনি নবান্ন। আদালতের কাছ থেকে আরও ছ’মাস সময় চাওয়া হয়। সেই আবেদনের ভিত্তিতে গত ৪ অগস্ট থেকে শুনানি চলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের বেঞ্চে। গত ৮ সেপ্টেম্বর সেই আবেদনের ভিত্তিতে মামলার শুনানি শেষ হয়। ১৬ মে-র নির্দেশই সুপ্রিম কোর্ট বহাল রাখল বৃহস্পতিবার। আদালত জানাল, ডিএ সরকারি কর্মচারীদের আইনি অধিকার। বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে। বাকি বকেয়ার ৭৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার জন্য নতুন কমিটি গঠনের কথা বলে সুপ্রিম কোর্ট।


Share