Sumit Roy

‘পুলিশকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে,’ নির্দেশ শীর্ষ আদালতের, জমি দখল মামলায় অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিতকে রক্ষাকবচ দিল সুপ্রিম কোর্ট

বৃহস্পতিবার দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২৬ ১২:৪১

জমি-দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতারির আশঙ্কায় রক্ষাকবচ চেয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়েছে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, সুমিত রায়কে তদন্তের সহযোগিতা করতে হবে।

এর আগে পশ্চিম মেদিনীপুরে জমি দুর্নীতি মামলায় আগাম জামিনের আবেদন করে সুমিত কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। গত সোমবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ সেই আবেদন খারিজ করে দেন। তবে ডেবরা থানায় দায়ের হওয়া নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় শর্তসাপেক্ষে সুমিতকে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়। হাই কোর্ট নির্দেশ দেয়, ওই মামলায় ১০ দিনের মধ্যে সুমিতকে তদন্তকারী আধিকারিকের কাছে হাজিরা দিতে হবে। পরবর্তীতে তদন্তের প্রয়োজনে আবার তলব করা হলে সেখানেও হাজিরা দিতে হবে। তা-ও এখও পর্যন্ত তিনি মানেননি।

তবে সুমিতের আশঙ্কা, চাকরি দুর্নীতি মামলায় তদন্তকারীদের সামনে হাজিরা দিতে গেলে জমি দুর্নীতি মামলার সূত্র ধরে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। সেই আশঙ্কার জেরেই হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বুধবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। সেই মামলার শুনানি হয়েছে। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই মামলায় সুমিত রায়কে তদন্তকারী আধিকারিকদের সহযোগিতা করতে হবে।

কখন তদন্তকারী আধিকারিকেরা সুমিতকে ডেকে জেরা করতে পারবেন তা-ও জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা মধ্যে পুলিশ সুমিত রায়কে জেরা করতে পারবে। এই সময়ের মধ্যেই সুমিতকে পুলিশের কাছে হাজিরা দিতে হবে। এই মামলায় আগামী শুনানির দিন পর্যন্ত রক্ষাকবচ বহাল থাকবে।

পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে ভুয়ো নথি তৈরি করে সরকারি জমি দখল ও বিক্রির অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের নাম জড়িয়েছে।  অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে সরকারি জমি বিক্রির জন্য জাল নথি তৈরি করা হত এবং সেই পুরো প্রক্রিয়া সুমিতের সম্মতিতেই চলত। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তৃণমূল নেতা সুজয় হাজরারে আগে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই সুমিত রায়ের নাম উঠে আসে।

সুমিতের বিভিন্ন ঠিকানায় পুলিশ তল্লাশি চালিয়েও খোঁজ পাওয়া যায়নি। এর পরেই তদন্তকারী সংস্থা আদালতের দ্বারস্থ হয়। পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে মেদিনীপুরের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এরপর আইনজীবীর মাধ্যমে আগাম জামিনের আবেদন নিয়ে সুমিত কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। তবে হাই কোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপরই গ্রেফতারের আশঙ্কায় তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।

সুমিত রায়ের পক্ষে তাঁর আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য জরুরি শুনানির আবেদন করেছিলেন। বেঞ্চ পরিবর্তনের আবেদন জানানো হলেও তা হাই কোর্ট খারিজ করে দেয়। হাই কোর্টের শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আগাম জামিনের আবেদন নিয়মিত বেঞ্চেই শুনানি হবে। সেই অনুযায়ী বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে মামলার শুনানি হয়। গত সোমবার শুনানি শেষে বিচারপতি ঘোষ সুমিত রায়ের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন।


Share