Calcutta High Court

একসময় মহালয়ার আগে থেকেই উপচে পড়ত ভিড়, এ বার জেলেই দুর্গাপুজো! পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুজিত বসুর জামিনের আবেদন খারিজ

জামিনের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেও স্বস্তি পেলেন না তিনি। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে এবারের দুর্গাপুজো জেলেই কাটাতে হতে পারে সুজিত বসুকে।

কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৪৩

একসময় কলকাতার অন্যতম সেরা দুর্গাপুজো হিসেবে পরিচিত ছিল রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের পুজো। মহালয়ার আগে থেকেই ঠাকুর দেখতে ভিড় জমত দর্শনার্থীদের। তবে এ বছর সেই ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) হাতে গ্রেফতার হয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। জামিনের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেও স্বস্তি পেলেন না তিনি। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে এবারের দুর্গাপুজো জেলেই কাটাতে হতে পারে সুজিত বসুকে।

প্রথমে এই মামলাটি ছিল বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে। শুনানি শেষে সুজিতের আইনজীবীরা বিচারপতির কক্ষ থেকে একটি ফাইল নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন বিচারপতি। এরপরই মামলাটি থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ মামলা ছাড়ার পর তা যায় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে। সেখানে জামিনের আবেদন জানানো হলেও তা খারিজ হয়ে যায়। তবে শুনানি চলাকালীন জামিনের আবেদন খারিজের নির্দিষ্ট কারণ আলাদা করে জানাননি বিচারপতি।

হাই কোর্টে ইডির আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী দাবি করেন, পুর নিয়োগ দুর্নীতির মাধ্যমে ২৮৪ জন অযোগ্য প্রার্থী চাকরি পেয়েছেন। প্রত্যেকের কাছ থেকে চাকরির বিনিময়ে ছয় লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ তদন্তকারী সংস্থার। ইডির দাবি, সুজিত বসুর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৮.৮ কোটি টাকা মিলেছে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের অ্যাকাউন্টেও কয়েক কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছে বলে আদালতে জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

এই মামলায় সুজিতের আগে গ্রেফতার হয়েছিলেন মিডলম্যান অয়ন শীল। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বিভিন্ন সময়ে ১৫২ জনের চাকরির জন্য সুজিত বসু সুপারিশ করেছিলেন বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা, এমনটাই আগে হাই কোর্টে জানিয়েছিল ইডি।

অন্যদিকে, সুজিতের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি ও সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের বক্তব্য, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত শেষ হয়ে গিয়েছে। তা সত্ত্বেও সুজিতকে জেলে আটকে রাখা অনৈতিক। ইডির পক্ষে তাঁর গ্রেফতারিকে যুক্তিসঙ্গত প্রমাণ করা সম্ভব নয় বলেও দাবি করেন তাঁরা।

সুজিতের আইনজীবীদের আরও বক্তব্য, ২০১৬ সালের পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে ইডি তাঁকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে দেখালেও সিবিআইয়ের ২০২৪-২৫ সালের চার্জশিটে তাঁর নাম ছিল না। তাঁদের দাবি, সুজিতের বাড়ি কলকাতায়। তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে যে কোনও সময় ডাকা যেতে পারে এবং তিনি তদন্তে সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, গত ১১ মে সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, পুর নিয়োগ দুর্নীতির ঘটনায় প্রায় ১৫০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম উঠে এসেছে। দুর্নীতির মাধ্যমে পাওয়া টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল বলেও মনে করছেন তদন্তকারীরা। আপাতত হাই কোর্টে জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ায় জেলেই থাকতে হচ্ছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীকে। 


Share