Job Scam

ভুয়ো অ‍্যাকাউন্ট দিয়ে কোটি টাকা লেনদেন, নষ্ট করা হয়েছে বেশ কিছু ডিজিটাল প্রমাণ, পুরোনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আদালতকে জানাল ইডি

সোমবার সাড়ে ১০টা নাগাদ সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছে যান তৃণমূল নেতা সুজিত বসু। সাড়ে ১০ ঘণ্টার জেরার পরে রাত ৯টার একটু পরে সুজিতকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় ইডি। এখনও পর্যন্ত তাঁর ছেলে সমুদ্র বসুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সুজিত বসুর আইনজীবী।

সুজিত বসু ইডির হাতে গ্রেফতার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ০৩:৫৬

পুরোনিয়োগ দুর্নীতির মামলায় সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছে ইডি। সেই নিয়োগ দুর্নীতির কালো টাকা সাদা করা হয়েছে। তার জন‍্য বিভিন্ন ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল। চাইনিজ রেস্তোরাঁরার অ‍্যাকাউন্টকেও কালো টাকা সাদা করা হয়েছিল বলে মঙ্গলবার আদালতে জানিয়েছে ইডি। তাঁকে ১০ দিনের জন‍্য ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল রাতে ১০ ঘন্টা দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পরে রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে ইডি গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার ধৃত সুজিত বসুকে বিচারভবনে হাজির করানো হয়। এ দিন ইডি আদালতকে জানিয়েছে, করোনাকালে লকডাউনের সময়ই নিয়োগ দুর্নীতির বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে। ইডির দাবি, কোনও অ‍্যাকাউন্ট থেকে তিন কোটি ৬৭ লক্ষ, কোনটা থেকে এক কোটি দু’লক্ষ আবার কোনটা থেকে এক কোটি আট লক্ষ টাকার লেনদেন করা হয়েছে। তার জন‍্য ১৫ থেকে ১৬টি ভুয়ো কোম্পানির অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। এমনকী, সেই নিয়োগ দুর্নীতির টাকা নির্মাণ ব‍্যবসায় খাটানো হয়েছে। ইডি জানিয়েছে, ২০১৪ সালে এবিএস ইনফো জোন এবং ২০১৬ সালে একটি নির্মাণ সংস্থার কোম্পানিতে বিনিয়োগ হয়েছে সেই সময় ধৃত তৃণমূল নেতা যথাক্রমে ৬৭ শতাংশ এবং ১৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক ছিলেন। এর পাশাপাশি, রেঁস্তোরা এবং ধাবার অ‍্যাকাউন্ট খেকে কোভিডের সময় কোনও সময় এক কোটি ১১ লক্ষ টাকা, কখনও ৬৮ লক্ষ টাকা, কখনও এক কোটি ২৫ লক্ষ টাকা লেনদেন হয়েছে। এ ছাড়াও, পুরনিয়োগ দুর্নীতির টাকা শ্রীভূমি প্রাইভেট প্রোজেক্টের অ‍্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেনের হদিশ মিলেছে। 

ইডি সূত্রের আরও দাবি, এই নিয়োগ দুর্নীতির টাকা প্রভাবশালীদের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। পাশাপাশি, কালো টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেও মনে করছে ইডির তদন্তকারীরা। ইডি আদালতকে জানিয়েছে, এই মুহূর্তে সুজিত বসুকে জামিন দিলে ডিজিটাল প্রমাণ নষ্ট হতে পারে। তাই তদন্তের স্বার্থে সুজিত বসুকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। দশ দিনের হেফাজত চাওয়া হয়েছে। বিচারক নির্দেশ রিজার্ভ করেছেন।

উল্লেখ্য, সোমবার সাড়ে ১০টা নাগাদ সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছে যান তৃণমূল নেতা সুজিত বসু। সাড়ে ১০ ঘণ্টার জেরার পরে রাত ৯টার একটু পরে সুজিতকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় ইডি। এখনও পর্যন্ত তাঁর ছেলে সমুদ্র বসুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সুজিত বসুর আইনজীবী। 

ইডি জানিয়েছে, দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালীন লাগাতার দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কারোর থেকে টাকা নিয়েছেন। আবার কেউ দিয়েছেন জমি। তার বিনিময়ে পুরসভায় চাকরি দেওয়া হয়েছে। মোট ১৫০ জনকে বেআইনি ভাবে নিয়োগ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজ‍্যের মন্ত্রী হওয়ার ১৭টি পুরসভায় প্রায় ১ হাজার জনকে বেআইনি ভাবে চাকরি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


Share