New Market Fire

শিখা ইন হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর কড়া পদক্ষেপ, নিউ মার্কেটের আরও ১৭ হোটেলকে শোকজ দমকলের

বৃহস্পতিবার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ন’টি গেস্ট হাউস এবং চারটি রেস্তরাঁকে শোকজ করা হয়েছিল। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের কাছ থেকে জবাব চাওয়া হয়। শুক্রবার সেই তালিকায় আরও ১৭টি হোটেল যুক্ত হল।

নিউ মার্কেটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থলে দমকলের ইঞ্জিন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২১ আগস্ট ২০২৬ ০৪:০৮

নিউ মার্কেট এলাকার আরও ১৭টি হোটেলকে শোকজ করল দমকল। ওই হোটেলগুলির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক উত্তর না মিললে দমকল সংশ্লিষ্ট হোটেলগুলি বন্ধ করে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে নিউ মার্কেটের মির্জ়া গালিব স্ট্রিটের হোটেল ‘শিখা ইন’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে ন'জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে সাত জনই বাংলাদেশের নাগরিক। এই ঘটনার পরই প্রশাসন হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কড়া পদক্ষেপ শুরু করেছে। কলকাতা পুলিশের তরফে ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সিট এক জনকে গ্রেফতার করেছে। তবে হোটেল মালিকের এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি। অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে কলকাতা পুরসভা ও দমকল নজরদারি বাড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ন’টি গেস্ট হাউস এবং চারটি রেস্তরাঁকে শোকজ করা হয়েছিল। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের কাছ থেকে জবাব চাওয়া হয়। শুক্রবার সেই তালিকায় আরও ১৭টি হোটেল যুক্ত হল।

নতুন করে মার্কুইজ স্ট্রিটের ১০টি হোটেলকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তালিকায় রয়েছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের পাঁচটি, এসএন ব্যানার্জি রোডের একটি এবং তপসিয়া রোডের একটি হোটেলও। দমকল সংশ্লিষ্ট হোটেলগুলির মালিকদের নোটিশ পাঠিয়েছে। কেন হোটেলগুলি বন্ধ করে দেওয়া হবে না, তার ব্যাখ্যা দিয়ে শনিবারের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে তাঁদের।

মির্জা গালিব স্ট্রিটের ঘটনায় বিজেপি পূর্বতন সরকারের গাফিলতিকেই কাঠগড়ায় তুলেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল প্রশ্ন তুলেছেন, ন্যূনতম পরিকাঠামো না থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে ওই হোটেলগুলি ট্রেড লাইসেন্স পেল? দমকলের ছাড়পত্র এবং পুরসভার অনুমোদনই বা দেওয়া হল কী ভাবে? পাল্টা প্রাক্তন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্য, ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে কি না, তা তাঁর একার পক্ষে খতিয়ে দেখা সম্ভব ছিল না। একই সঙ্গে তিনি জানান, দোষারোপের রাজনীতি করে কোনও লাভ হবে না।

সূত্রের খবর, মঙ্গলবার রাত দেড়টা থেকে দু'টোর মধ্যে ‘শিখা ইন’-এর রিসেপশনে আগুন লাগে। দ্রুত সেই আগুনের ধোঁয়া হোটেলের ঘরগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। হোটেলে ঢোকা ও বেরোনোর জন্য রিসেপশনের পাশেই ছিল একটিমাত্র সঙ্কীর্ণ দরজা। ফলে আগুন লাগার পর আবাসিকেরা বেরোতে পারেননি। ১০ জন আবাসিকের মধ্যে আট জনের মৃত্যু হয় ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে। পরে ঘরের ভিতরের বিছানা, মেঝে এবং শৌচালয় থেকে তাঁদের দেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ, মাত্র এক হাজার ১০০ বর্গফুট জায়গার মধ্যে পাঁচটি ঘর তৈরি করা হয়েছিল। প্রতিটি ঘরের সঙ্গে ছিল আলাদা স্নানঘর। হোটেল তৈরির ক্ষেত্রে কোনও নিয়মই মানা হয়নি বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় পুলিশ আবু জাফরকে গ্রেফতার করেছে। তিনি হোটেলের মালিক বীরেশ্বর মিত্রের কাছ থেকে সেটি লিজ নিয়েছিলেন। তবে ঘটনার পর থেকেই বীরেশ্বর পলাতক।


Share