Sharadwata Mukherjee

সরকারি হাসপাতালে বেড না পেলে বেসরকারিতে চিকিৎসা, ‘রেফার রোগ’ সারাতে নতুন পথে রাজ্য

সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় স্বাস্থ্য ভবনে বিজেপি সরকারের ১০০ দিনের সাফল্যের ২৩টি দিক তুলে ধরেন।

স্বাস্থমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০২৬ ০১:৩৬

সরকারি হাসপাতালে রোগী ‘রেফার’ করার প্রবণতা কমাতে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর বেসরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামোকে কাজে লাগানোর পথে হাঁটছে। সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় স্বাস্থ্য ভবনে বিজেপি সরকারের ১০০ দিনের সাফল্যের ২৩টি দিক তুলে ধরেন। সাফল্যের তালিকায় অন্যতম হিসেবে তিনি বাম আমলে বেসরকারি হাসপাতালগুলির সঙ্গে হওয়া চুক্তি কার্যকর করার বিষয়টিও তুলে ধরেন।

বাম আমলে ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে শর্তসাপেক্ষে কার্যত বিনামূল্যে জমি দেওয়া হয়েছিল। শর্ত অনুযায়ী, হাসপাতালগুলির অন্তর্বিভাগের ১০ শতাংশ শয্যা বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ রাখার কথা ছিল। পাশাপাশি বহির্বিভাগেও ২০ শতাংশ রোগীকে বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছিল। এই শর্তে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেওয়া বেসরকারি হাসপাতালগুলির বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়ার বিষয়টি ২০১৭ সালে ‘ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট’ আইনের আওতায়ও উল্লেখ করা হয়। তবে এত দিন সেই ব্যবস্থা কার্যকর হয়নি।

ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাকে হাতিয়ার করেই সরকারি হাসপাতালে রোগী রেফার করার প্রবণতা কমানো যাবে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশাবাদী। সেই লক্ষ্যেই সোমবার স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতিতে কেপিসি মেডিকেল কলেজের সঙ্গে একটি মক ড্রিল করা হয় বলে তিনি জানিয়েছেন। রাজ্যের অন্যতম প্রধান সরকারি হাসপাতাল এসএসকেএমে ভর্তি হতে আসা রোগীকে কী ভাবে কেপিসি মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো যায়, এ দিন সেই প্রক্রিয়ারই মহড়া করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “কোন‌ও রোগী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসার পর যদি বেড না পান, ভেন্টিলেটর যদি খালি না থাকে তা হলে আমরা আমাদের অ্যাম্বুল্যান্সে বেসরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেব‌। আজ থেকে সরকারি হাসপাতালের রোগী বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হবে। এখন থেকে বেড ছিল না বলে রোগীকে ভর্তি করা গেল‌ না, সেই সমস্যার সুরাহা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল।”

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আর‌ও জানান, প্রতিটি বড় হাসপাতালের সঙ্গে সরকারি সুযোগসুবিধা প্রাপ্ত একটি বেসরকারি হাসপাতালকে যুক্ত করা হবে। শারদ্বতের কথায়, “আজ এস‌‌এসকেএমের সঙ্গে কেপিসি জুড়ে গেল। আসল রোগীর চাপ তো এস‌এসকেএম হাসপাতালে! দ্বিতীয় মেডিকেল কলেজ, তৃতীয় এন‌আর‌এস, চতুর্থ আরজি কর। এই পদক্ষেপ অনন্য, ইউনিক! স্বাস্থ্য ভবনের কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি পরিচালিত হবে।”

অ্যাসোসিয়েশন অফ হেল্‌থ সার্ভিস ডক্টর্সের সাধারণ সম্পাদক উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সরকারি হাসপাতালে শয্যা সঙ্কট মেটানোর জন্য রাজ্য সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানাচ্ছি। কী ভাবে পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হচ্ছে তা দেখতে হবে। তবে জেলা থেকে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা কোন‌ও রোগীকে এস‌এসকেএমে রেফার করলে সেই রোগীকে এস‌এসকেএমে ভর্তি করানো‌ই বাঞ্ছনীয়। সেই সঙ্গে এস‌এসকেএম থেকে যে রোগীকে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হচ্ছে সেখানে সেই রোগের চিকিৎসার পরিকাঠামো রয়েছে কি না তা সুনিশ্চিত করতে হবে।”

বেসরকারি হাসপাতালগুলির সংগঠনের সভাপতির এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে উৎপল বলেন, “চুক্তি মেনে বেসরকারি হাসপাতাল কোন‌ও রোগীর চিকিৎসার খরচ পুরোপুরি বিনামূল্যে দেবে কি না, তাও স্পষ্ট হ‌ওয়া প্রয়োজন।”


Share