Chor Bagan Incident

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়ে কমিশন গঠন করতে পারবে রাজ্য সরকার, চোরবাগান বিপর্যয় নিয়ে জনস্বার্থ মামলায় নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছে। ঘটনার তদন্তে জন্য কলকাতা হাইকোর্টে কর্মরত একজন বিচারপতির নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠনের জন্য রাজ্য সরকার আবেদন জানিয়েছিল। রাজ‍্যের মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখে কমিটির প্রধান হিসেবে একজন কর্মরত বিচারপতির নাম সুপারিশ করার অনুরোধ জানান।

চোরবাগান বিপর্যয় নিয়ে বড় ঘোষণা কলকাতা হাই কোর্টের।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:৩২

চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্টের ঘটনায় তদন্ত করতে পারবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। কর্মরত কোনও বিচারপতিকে দিয়ে ঘটনার তদন্ত করানো যাবে না। রাজ‍্য সরকার তদন্ত কমিশনের নেতৃত্বে একজন কর্মরত রিচারপতিকে চেয়ে প্রধান বিচারপতিকে আবেদন করেছিল। সেই অনুরোধে পরিবর্তন এনেছে কলকাতা হাই কোর্ট। প্রধান বিচারপতির নির্দেশ, পছন্দ মতো অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠন করতে পারবে রাজ্য সরকার।

কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চে চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্টের ঘটনা নিয়ে মামলা দায়ের হয়েছিল। মঙ্গলবার জরুরি ভিত্তিতে সেই মামলার শুনানি হয়েছে। তবে রাজ‍্য সরকরার পদক্ষেপে খুশি হয়েছেন প্রধান বিচারপতি। শুনানি চলাকালীন তাঁর বক্তব্য, তদন্ত কমিশনের জন্য একজন কর্মরত বিচারপতিকে মনোনীত করার জন্য রাজ‍্য সরকারের তরফ থেকে তাঁর কাছে অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি মনে করছেন, ঘটনার সঠিক তদন্ত হোক তা রাজ্য সরকার চায়। রাজ‍্য সরকারের সঠিক তদন্তের সদিচ্ছা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে শীর্ষ আদালতের গাইডলাইন অনুযায়ী কর্মরত কোনও বিচারপতিকে কমিশনে নিয়োগ করা যায় না বলেও জানিয়েছেন হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি। তাঁদের কমিশনে নিয়োগ করা অসম্ভব বলে উল্লেখ করেছেন। প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের কথায়, সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন অনুযায়ী বিচারপতিদের সংখ‍্যা কম রয়েছে। সেই কথা মাথায় রেখে কর্মরত বিচারপতিদের কমিশন গঠন সম্ভব নয়। তাই রাজ‍্য সরকার চাইলে তাঁরা নিজের পছন্দের মতো অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠন করতে পারে।

অন্য দিকে, জনস্বার্থ মামলার আবেদনকারীর পক্ষের আইনজীবী, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় শুনানির সময় সওয়াল করেন, সরকার পরিবর্তন হয়েছে। তার সঙ্গে সঙ্গে পুজো কমিটিতেও পরিবর্তন এসেছে। সেখানে অনভিজ্ঞ মানুষরাও এসে পড়েছে। এ বছর ভিড় কম হয়েছে, আগের বার অনেক ভিড় হয়েছিল বলে দাবি করেন কল‍্যাণ বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়।

কল‍্যাণের আরও অভিযোগ, পুজোর আগে পুলিশ সমস্ত কিছু খতিয়ে করে দেখে। এ বছর পুলিশের কেউ এই প্যান্ডেল পর্যবেক্ষণ করতে আসেনি। কলকাতা পুলিশের কমিশনার নিজে ঘুরে ঘুরে দেখতেন। চোরবাগান সর্বজনীনের প্যান্ডেলের নকশা একটা জেলখানার মতো ছিল। ফলে চলাচলের জায়গা সেখানে নেই। নেই পর্যাপ্ত আলো। কল‍্যাণের প্রশ্ন, পুলিশ কী করছিল? তারা কেন খতিয়ে দেখেননি? তিনি এ-ও জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে ওই পুজোর উদ্বোধন করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজে তো এগুলো দেখবেন না, তা হলে পুলিশের কী ভূমিকা ছিল?

চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছে। ঘটনার তদন্তে জন্য কলকাতা হাইকোর্টে কর্মরত একজন বিচারপতির নেতৃত্বে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠনের আবেদন জানিয়েছিল রাজ্য সরকার। রাজ‍্যের মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখে কমিটির প্রধান হিসেবে একজন কর্মরত বিচারপতির নাম সুপারিশ করার অনুরোধ জানান। সেই অনুরোধই পরিবর্তন আনল কলকাতা হাই কোর্ট।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, এই তদন্ত কমিশন প্রশাসনিক ত্রুটি, নিরাপত্তাজনিত ঘাটতি এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের ভূমিকাই খতিয়ে দেখবে। তাঁরা সব দিক পর্যবেক্ষণ করে আদালতে রিপোর্ট জমা দেবে। এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন যে কলকাতা পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং কলকাতা পুরসভার কেউ এই কমিশনে থাকবেন না। 


Share