Kolkata Municipal Corporation

কেন ভেঙে দেওয়া হবে না পুর বোর্ড? মেয়রের ইস্তফার পর কলকাতা পুরসভাকে নোটিস দিল রাজ্য সরকার

পুরসভার বোর্ড কেন ভেঙে দেওয়া হবে না, তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে পুরসভাকে। যদিও প্রাক্তন মেয়র বিকাশ ভট্টাচার্যের দাবি, পুর বোর্ড ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা রাজ্য সরকারের নেই।

প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ ১০:৪২

কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিম ইস্তফা দিয়েছেন। তার পর থেকেই নতুন করে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা পুরসভার বোর্ড কেন ভেঙে দেওয়া হবে না। তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করেছে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। তাতে পুরসভাকে তিন দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। পুর কমিশনার, পুরসচিব এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকদের কাছেও নোটিসের প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে।

রাজ্য সরকারের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে কলকাতা পুরসভার স্বাভাবিক পরিষেবা প্রদানে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, মেয়রের পদ শূন্য থাকার কারণে নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে। সংবিধান ও কলকাতা পুরসভা আইন, ১৯৮০ অনুযায়ী পুরসভার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সরকারি নোটিসে কলকাতা পুরসভা আইনের ১১৭(১) ধারার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কোনও পুরসভা যদি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, ধারাবাহিক ভাবে গাফিলতি করে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে, তাহলে রাজ্য সরকার তাকে অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করে। সর্বোচ্চ ছ’মাসের জন্য ভেঙে দিতে পারে। তবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পুরসভাকে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দিতে হয়।

সেই কারণেই ১১৭(২)(এ) ধারা অনুযায়ী কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠিয়ে তিন দিনের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছে। পুরসভার উত্তর পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। অতয়েব, একতরফা ভাবে পুরসভা ভেঙে দেওয়ার সুযোগ সরকারের নেই।

এ দিকে, পুরসভা ভেঙে দেওয়া হলে কী হবে তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। কলকাতা পুরসভা আইনের ১১৮ ধারা অনুযায়ী, সে ক্ষেত্রে মেয়র, কাউন্সিলর এবং মেয়র পারিষদের সদস্যদের পদ শূন্য হয়ে যাবে। এরপর সরকার মনোনীত প্রশাসক বা প্রশাসনিক প্রতিনিধিরা পুরসভার দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

এই প্রসঙ্গে এক আইনজীবী বলেন, রাজ্য সরকার পুরসভার কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। ব্যাখ্যা চাইতে পারে। কিন্তু পুর বোর্ড ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। তাঁর মতে, মেয়রের পদ শূন্য হওয়ার পর সরকারের করণীয় মূলত এটাই।

অন্য দিকে, কলকাতা পুরসভার তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সচ্চিদানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অতীতেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সত্তরের দশকের গোড়ায় এবং তারও আগে কলকাতা পুরসভায় প্রশাসক বসিয়ে পরিষেবা সচল রাখা হয়েছিল। তাঁর মতে, পুরসভা ভেঙে না দিয়ে আপাতত প্রশাসক নিয়োগ করাই বাস্তবসম্মত ও আইনসঙ্গত পদক্ষেপ হতে পারে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার পুরসভার চেয়ারম্যান মালা রায়ের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন ফিরহাদ হাকিম। ইস্তফার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, আগে যেভাবে নাগরিকদের সমস্যার সমাধান করতে পারতেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা আর সম্ভব হচ্ছে না। তাই পদে থেকে দায়িত্ব পালন করতে তিনি পারছেন না। এই চেয়ার আগলে বসে থাকতে তিনি নারাজ। তাই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক ক্ষমতার বড় অংশ কার্যত পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের হাতে চলে যায় বলে অভিযোগ ছিল। তৃণমূলের একাধিক কাউন্সিলরও স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারার কথা জানিয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটেই কাজের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে ফিরহাদ মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেন। আর তার পরপরই কলকাতা পুরসভাকে রাজ্য সরকার নোটিস পাঠায়।


Share