Fuel Crisis

জ্বালানি সংকটের জেরে কাটছাঁট হতে পারে মুখ‍্যমন্ত্রীর কনভয়, ‘ট‍্যাক টিম’-এর গাড়ি নিয়েও ভাবনাচিন্তা রাজ্যের

প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের পর বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যও একই পথে হাঁটতে শুরু করেছে। যোগী আদিত্যনাথ নিজের কনভয়, মন্ত্রী এবং শীর্ষ আমলাদের সরকারি গাড়ির বহর ৫০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ ০১:২৩

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজের কনভয়ে থাকা গাড়ির সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ সূত্রের খবর, এর পরেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে থাকা গাড়ির সংখ্যাও কমতে চলেছে। পুলিশ সূত্রের খবর, তা নিয়ে ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটি ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর প্রোটোকল অনুযায়ী, কলকাতা শহরে যাতায়াতের জন্য কনভয়ে অন্তত নয় থেকে দশটি গাড়ি থাকে। জেলা সফরে গেলে সেই সংখ্যাটা একটু বৃদ্ধি পায়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যেই দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজের কনভয়ে থাকা গাড়ির সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজের কনভয়ে বিদ্যুৎ পরিচালিত গাড়ির ব্যবহারের ওপর জোর দিতে বলেছেন। এর পরেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে থাকা গাড়ির সংখ্যা কমতে পারে বলে জানা গিয়েছে। কনভয়ে দু-তিনটি গাড়ি কমতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

মূলত প্রটোকল অনুযায়ী, মুখ‍্যমন্ত্রীর কনভয়ের শেষ গাড়ি হিসেবে একটি লাইফ সাপোর্ট অ‍্যাম্বুলেন্স থাকে। কিন্তু কনভয়ের শেষ হওয়ার পরেও দেখা যাচ্ছে, পুলিশ কর্তাদের গাড়ি যাচ্ছে। সূত্রের খবর, তিনি যে এলাকার মধ‍্যে দিয়ে যান, সেই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকেরা যাচ্ছেন। এই রীতিনীতি গত ১০ বছর ধরে চলছে বলেও দাবি করা হয়েছে। একে পুলিশি ভাষায় ‘ট‍্যাক টিম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। লালবাজারের এক পুলিকর্তার কথায় এই ‘ট‍্যাক টিম’-এক প্রয়োজনীয়তা কার্যত নেই।

পুলিশ সূত্রে এ-ও জানা গিয়েছে, জ্বালানি সংকটের জেরে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমতে চলেছে। নবান্ন সূত্রের খবর, জ্বালানি সংকটকে মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী নিজেও চান সেটাই। তবে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে এই ‘ট‍্যাক টিম’ আদৌ রাখা হবে কি না তা নিয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটির এর কর্তার কথায়, ‘তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে।’

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসপিজিকে কনভয় ছোট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু গাড়ির সংখ্যা কমানোই নয়, প্রধানমন্ত্রীর বহরে আরও বেশি বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে এর জন্য নতুন গাড়ি কেনা হবে না বলেই জানা গিয়েছে। অতিরিক্ত ব্যয় না করেই ধাপে ধাপে পরিবেশবান্ধব গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত ‘ব্লু বুক’-এর সমস্ত বাধ্যতামূলক নিয়ম মেনেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।

শুধু প্রধানমন্ত্রীর দফতর নয়, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রককেও জ্বালানি সাশ্রয়ের রূপরেখা তৈরি করতে বলা হয়েছে। কোন মন্ত্রক কীভাবে জ্বালানির ব্যবহার কমাবে, তার বিস্তারিত পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মীদের মধ্যে মেট্রো ব্যবহার, কারপুলিং, অপ্রয়োজনীয় সফর কমানো এবং ভার্চুয়াল বৈঠক বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নিয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে। প্রয়োজনে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ ব্যবস্থাও বাড়ানো হতে পারে বলে খবর।

প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের পর বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যও একই পথে হাঁটতে শুরু করেছে। যোগী আদিত্যনাথ নিজের কনভয়, মন্ত্রী এবং শীর্ষ আমলাদের সরকারি গাড়ির বহর ৫০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে। এ ছাড়াও, বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের একই ধরনের পদক্ষেপ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। কেন্দ্রের তরফে স্পষ্ট বার্তা, সাধারণ মানুষকে মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দেওয়ার আগে সরকারকেই উদাহরণ তৈরি করতে হবে।


Share