Smita Pandey

এসএসআর বৈঠকে বিরোধীদের একের পর এক আপত্তি! ক্লাবের বদলে স্কুল-কলেজে ভোটকেন্দ্রের দাবি, গরহাজির দুই তৃণমূল শিবির

পোলিং স্টেশনের সংখ্যা বৃদ্ধি, নতুন ভোটকেন্দ্র তৈরি থেকে শুরু করে ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়সূচি—একাধিক বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে গোটা প্রক্রিয়ার রূপরেখা তুলে ধরেন স্মিতা পান্ডে।

উত্তর কলকাতার নির্বাচনী আধিকারিক স্মিতা পান্ডে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ০৬:০৪

স্পেশাল সামারি রিভিশন প্রক্রিয়া ঘিরে উত্তর কলকাতায় সর্বদলীয় বৈঠক করলেন জেলা নির্বাচনী আধিকারিক স্মিতা পান্ডে। মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর ক্লাবে আয়োজিত এই বৈঠকে হাজির ছিলেন বিজেপি, কংগ্রেস ও বামেদের প্রতিনিধিরা। তবে বৈঠকে দেখা মেলেনি মমতা তৃণমূল ও ঋতব্রত শিবিরের প্রতিনিধিদের। পোলিং স্টেশনের সংখ্যা বৃদ্ধি, নতুন ভোটকেন্দ্র তৈরি থেকে শুরু করে ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়সূচি—একাধিক বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে গোটা প্রক্রিয়ার রূপরেখা তুলে ধরেন স্মিতা পান্ডে।

জেলা নির্বাচনী আধিকারিক জানান, আগামী ১৩ নভেম্বরের মধ্যে পোলিং স্টেশন চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যে ৩৯টি নতুন ও স্থানান্তরিত পোলিং স্টেশনের প্রস্তাব ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলির কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব নিয়ে কোনও আপত্তি থাকলে আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে তা জানাতে হবে। বর্তমানে উত্তর কলকাতায় মোট ১ হাজার ৮৩৫টি পোলিং স্টেশন রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি বহুতলে ভোটকেন্দ্র তৈরির বিষয়েও নতুন প্রস্তাব এসেছে। কাশীপুর-বেলগাছিয়া ও মানিকতলা বিধানসভা এলাকার তিনটি হাইরাইজ বিল্ডিংয়ে ভোটকেন্দ্র তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে জানান স্মিতা।

এ দিনের বৈঠকে ভোটার তালিকা প্রকাশের সম্ভাব্য দিনক্ষণও জানানো হয়। স্মিতা পান্ডে জানান, আগামী ২৩ নভেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। এরপর ২৮ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভোটার তালিকা নিয়ে দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকবে। সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ২০২৭ সালের ১৬ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। যদিও এই সময়সূচি নিয়ে আপত্তি তুলেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি।

বামেদের প্রতিনিধি রাজীব মজুমদারের অভিযোগ, সাধারণত প্রতি বছর ১ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এবার সেই সময়সীমা পিছিয়ে ১৬ জানুয়ারি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এর ফলে নির্বাচন কমিশনের প্রচলিত রীতি লঙ্ঘিত হচ্ছে। অন্য দিকে, কংগ্রেসের উত্তর কলকাতা জেলা সাধারণ সম্পাদক শঙ্করনাথ হাজরা দাবি করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের নাম পুনর্বিবেচনার জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। তাঁর অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সময় না দিয়েই তড়িঘড়ি ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ভোটকেন্দ্রের স্থান নির্বাচন নিয়েও সরব হয়েছে বিরোধীরা। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ক্লাবের পরিবর্তে সরকারি ভবন ও স্কুলে ভোটকেন্দ্র তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বিজেপির উত্তর কলকাতা জেলা সাধারণ সম্পাদক চিত্তরঞ্জন রায়ও ক্লাবের বদলে কলেজে ভোটকেন্দ্র করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি হাইরাইজ বিল্ডিংয়ে ভোটকেন্দ্র তৈরির ক্ষেত্রে ভোটারের সংখ্যার মাপকাঠি ৫০০ থেকে কমিয়ে ৩০০ করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে বলে জানান তিনি। সব মিলিয়ে এসএসআর প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রস্তাব ও আপত্তি উঠে এল উত্তর কলকাতার সর্বদলীয় বৈঠকে। তবে আলোচনায় অংশ নেয়নি দুই তৃণমূল শিবির।


Share