SSKM

এসএসকেএমে অত্যাধুনিক ক্যান্সার হাব, এপ্রিল থেকেই আউটডোর পরিষেবা, ভিনরাজ্যে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে রোগীদের

সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী মুম্বইয়ের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এসএসকেএমে একটি অত্যাধুনিক ক্যান্সার হাব গড়ে উঠেছে। হাসপাতালের মূল ভবনের উল্টো দিকেই তৈরি এই দশতলা কেন্দ্রটিতে আগামী এপ্রিল থেকে আংশিক পরিষেবা শুরু হতে চলেছে।

এসএসকেএম হাসপাতাল
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৩:২৮

ক্যান্সার চিকিৎসায় রাজ্যকে আরও স্বনির্ভর করে তুলতে বছর দেড়েক আগে বড় উদ্যোগ নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী মুম্বইয়ের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এসএসকেএমে একটি অত্যাধুনিক ক্যান্সার হাব গড়ে উঠেছে। হাসপাতালের মূল ভবনের উল্টো দিকেই তৈরি এই দশতলা কেন্দ্রটিতে আগামী এপ্রিল থেকে আংশিক পরিষেবা শুরু হতে চলেছে।

প্রথম পর্যায়ে সার্জিক্যাল অঙ্কোলজি, মেডিক্যাল অঙ্কোলজি ও রেডিয়োথেরাপি বিভাগের আউটডোর পরিষেবা চালু হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ইন্ডোর পরিষেবাও শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের মতে, সরকারি পরিকাঠামোর মধ্যেই আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসা এক জায়গায় এনে রোগীদের ভিন রাজ্যে যাওয়ার প্রয়োজন কমানোই এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পূর্বাভাসে আগামী দুই দশকে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা প্রায় দেড় গুণ বাড়তে পারে—এই আশঙ্কাকে মাথায় রেখেই উৎকর্ষকেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নয়া ক্যান্সার হাবের চেয়ারম্যান অলোক ঘোষদস্তিদার জানিয়েছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতিমধ্যেই বড় অগ্রগতি হয়েছে। প্রায় ১০০ কোটি টাকার আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম এসে পৌঁছেছে, যার মধ্যে উন্নত ব্র্যাকিথেরাপি মেশিনও রয়েছে। রেডিয়োথেরাপির একাধিক যন্ত্র বসানো হলেও সেগুলি এখনও অ্যাটোমিক এনার্জি রেগুলেটরি বোর্ডের অনুমোদনের অপেক্ষায়। কয়েক মাসের মধ্যেই অনুমোদন মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই ক্যান্সার হাবে একই ছাদের তলায় রেডিয়োথেরাপি, উন্নত কেমোথেরাপি ও বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল অঙ্কোলজির পাশাপাশি অঙ্কো-প্যাথলজি বিভাগ চালু হবে। বায়োপসি, এফএনএসি, হিস্টোপ্যাথলজি, ইমিউনো–হিস্টোকেমিস্ট্রি ও টিউমার মার্কারসহ যাবতীয় নির্ণয় পরিষেবা এক জায়গাতেই মিলবে। ভবিষ্যতে এখানে অঙ্কো–প্যাথলজিতে ডিএম কোর্স চালুর ভাবনাও রয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর রোগীদের শারীরিক ও মানসিক সমস্যার মোকাবিলায় প্যালিয়েটিভ কেয়ারের উপরও বিশেষ জোর দেওয়া হবে।

এদিকে ‘ইউনাইটেড বাই ইউনিক’ থিমে এসএসকেএম হাসপাতালে বিশ্ব ক্যান্সার দিবসও পালিত হয়েছে। সচেতনতা কর্মসূচিতে বিশেষজ্ঞরা ক্যান্সার প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ ও আধুনিক চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিশেষ করে শিশুদের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে আগাম রোগ নির্ণয় ও নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি আস্থা জোরদার করবে।


Share