Aftab Ansari

প্রেসিডেন্সি জেলে আফতাব আনসারি সেল থেকে ইলেকট্রিক সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তভার নিতে চলেছে এসটিএফ, জানাল লালবাজার

গত ২৩ অগস্ট ৬টা ২০ মিনিট নাগাদ এক দমদম সেন্ট্রাল জেলের এক ডিআইজি পদমর্যাদার এক আধিকারিকের নেতৃত্বে অভিযান চলে। প্রতিটি আসামীদের সেলে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে তল্লাশি চালানো হয়। রাত ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত তল্লাশি অভিযান চলে।

জেলবন্দি ইসলামিক জঙ্গি আফতাব আনসারি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৪০

প্রেসিডেন্সি জেলে ইসলামিক জঙ্গি আফতাব আনসারির কুঠুরি থেকে মোবাইল ফোন, রাউটার-সহ একাধিক ইলেকট্রনিক সামগ্রী উদ্ধার হয়েছিল। সেই ঘটনায় হেস্টিংস থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। লালবাজার সূত্রের খবর, এই ঘটনার তদন্তভার কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের হাতে তুলে দেওয়া হবে। তাঁরাই এই ঘটনার তদন্ত করবেন।

সোমবার লালবাজার সূত্রের খবর, এই মামলার তদন্তভার হেস্টিংস থানার হাত থেকে কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের হাতে তুলে দেওয়া হবে। তদন্তভার এসটিএফের হাতে তুলে দিতে শীর্ষকর্তারা সম্মতি দিয়েছেন। সোমবার এই মামলার তদন্তে হেস্টিংস থানার কয়েক জন আধিকারিক প্রেসিডেন্সি জেলে যান। সূত্রের খবর, এই মামলা সংক্রান্ত কেস ডায়েরি এসটিএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। তাঁরা পৃথক ভাবে মামলা রুজু করে তদন্তকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। 

গত ২৩ অগস্ট ৬টা ২০ মিনিট নাগাদ এক দমদম সেন্ট্রাল জেলের এক ডিআইজি পদমর্যাদার এক আধিকারিকের নেতৃত্বে অভিযান চলে। প্রতিটি আসামীদের সেলে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে তল্লাশি চালানো হয়। রাত ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত তল্লাশি অভিযান চলে। সেই সময় আবতাব আনসারির সেল থেকে তিনটি স্মার্টফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে একটি আইফোন রয়েছে। পাশাপাশি দু’টি জিও রাউটার, তিনটি জিও-র সিমকার্ড, দু’টি কার্ড রিডার, তিনটি ওটিজি পেনড্রাইভ, ১২৮ জিবির একটি সাধারণ পেনড্রাইভ, একটি সি-পোর্টের অ‍্যাডাপটার এবং একটি হেডফোন মিলেছে। এ ছাড়াও, আফতাব আনসারির সেল থেকে ৩১ হাজার টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা নোটগুলির সবকটিই ৫০০ টাকার বলে জানা গিয়েছে। 

উল্লেখ্য, ২০০২ সালে কলকাতার আমেরিকান সেন্টারে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে কলকাতা পুলিশের চার কনস্টেবল বীরগতি প্রাপ্ত হয়েছিলে। সেই ঘটনার চার দিন পরে ঝাড়খন্ডের হাজারিবাগে সেলিম এবং জাহিদ নামে দু’জন ইসলামিক জঙ্গিকে এনকাউন্টার করে পুলিশ। তারা মৃত‍্যুর আগে ঘটনার মূল অভিযুক্ত ইসলামিক জঙ্গি আফতাব আনসারির নাম নেয়। আফতাব হরকত-উল-জিহাদ-আল-ইসলামির জঙ্গি। এ ছাড়াও, জুতো প্রস্তুতকারক সংস্থা খাদিমের কর্তাকে অপহরণের ঘটনায়ও আফতাবের নাম জড়িয়েছিল। তাকে দুবাই থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্ট মৃত্যুদণ্ডের সাজা মুকুব করে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়।

তার পর থেকেই দমদমের সংশোধনাগারে বিশেষ নজরদারিতে আফতাবকে রাখা হয়। এর আগেও জেলে বসে বাইরে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ আফতাবের বিরুদ্ধে উঠেছিল। তার সেল থেকে এই বিপুল পরিমান ইলেকট্রিক সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় প্রমাণিত হয় যে ইসলামিক জঙ্গি আফতাব জেলে বসেই নেটওয়ার্ক চালাত। অভিযোগ, জেলে বসেই পাকিস্তানের জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত।

জেলবন্দিদের কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়। বাইরের জগতের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক যাতে না থাকে তা নিশ্চিত করতে হয়। এমন এক ‘হাই ভ‍্যালু’ জঙ্গির সেল থেকে বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী এবং নগদ টাকা উদ্ধার নিয়ে জেলে কর্তব্যরত আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কে এই সামগ্রী তার কাছে পৌঁছে দিল, কীভাবে এতদিন ধরে নজরদারি এড়িয়ে ইসলামিক জঙ্গি আফতাব অবাধে এই ডিভাইস ব্যবহার করল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জেলের কোনও আধিকারিকের সাহায‍্য ছাড়া যে এই বিপুল সামগ্রী ঢোকানো সম্ভব নয় তা কার্যত নিশ্চিত। এ বার সেই ঘটনার তদন্তভার নিতে চলেছে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স।


Share