Municipal Election

ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধন শুরু, ১২ নভেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশ, চূড়ান্ত তালিকা ৪ জানুয়ারি

পাশাপাশি, কোনও নির্বাচনী আধিকারিককে নিজে ওই বিষয়টি যাচাই করতে হবে। একই ব্যক্তি পাঁচটি বা তার বেশি ক্ষেত্রে আপত্তি জানালেও তা আলাদা করে পরীক্ষা করা হবে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১০:০৭

পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে শুরু হচ্ছে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা স্পেশাল সামারি রিভিশন (এসএসআর)। এই প্রক্রিয়ায় নতুন ভোটারের নাম তালিকায় তোলা, ভোটারদের তথ্য সংশোধন এবং মৃত বা অন্যত্র স্থানান্তরিত ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়ার সুযোগ মিলবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কোনও ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটারের ২ শতাংশ বা তার বেশি নাম বাদ দেওয়ার প্রস্তাব এলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর তা খতিয়ে দেখবে। পাশাপাশি, কোনও নির্বাচনী আধিকারিককে নিজে ওই বিষয়টি যাচাই করতে হবে। একই ব্যক্তি পাঁচটি বা তার বেশি ক্ষেত্রে আপত্তি জানালেও তা আলাদা করে পরীক্ষা করা হবে।

বৃহস্পতিবার এসএসআর শুরুর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা। ওই দিন থেকেই শুরু হবে সংশোধনের কাজ, যা চলবে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এর পর আগামী ৪ জানুয়ারি প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।

তবে এসএসআর এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর এক নয়। এসএসআর একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, যা প্রতি বছরই সম্পন্ন করে কমিশন। সাধারণত জানুয়ারি মাসে সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এসআইআর নিয়ে বিতর্কের আবহে এ বছরের এসএসআর বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় আধার কার্ড বাধ্যতামূলক নয়। মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট পোর্টালে আবেদন বা আপত্তি জানানো যাবে। তবে কোনও ব্যক্তি পাঁচটি বা তার বেশি আপত্তি জানালে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আধিকারিককে তা যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি, একটি পরিবারের সব সদস্যের নাম যাতে ভোটার তালিকায় একসঙ্গে থাকে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে কমিশন।

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এসআইআর ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়ায় বহু ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে। তাঁদের অনেকের আবেদন এখনও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত ট্রাইবুনালে বিচারাধীন। ফলে বাদ পড়া ওই ভোটারেরা বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনেও ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাননি তাঁরা।

এ বার কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগে ট্রাইবুনালে আবেদনগুলির নিষ্পত্তি না হলে বাদ পড়া ভোটারেরা পুরভোটেও ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

অন্য দিকে, এসআইআরে অনিয়মের অভিযোগ এবং গোটা প্রক্রিয়ায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল্লিতে আন্দোলনে নেমেছে বিরোধী দলগুলি। পথে নেমেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-সহ বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলি। এই রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই নতুন করে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিজ্ঞপ্তি জারি করল নির্বাচন কমিশন।


Share