Chor Bagan Incident

প‍্যান্ডেলে ভুল ঘোষণার জন‍্যই পদপিষ্টের ঘটনা ঘটেছে, আটক পুজো কমিটির কয়েক জন, রবিবার হাসপাতালে যাবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে একটি টোল ফ্রি হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে, যার নম্বর ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮। লালবাজারের তরফেও একটি নম্বর চালু করা হয়েছে। তা হল ০৩৩-২২১৪-১৩১০।

চোরবাগানের ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৩৩

দুর্গাসপ্তমীর সন্ধ্যায় বেঁপে বৃষ্টি নেমেছে। সেই সময়ই দুর্ঘটনা ঘটেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, মন্ডপে একটি ঘোষণা থেকেই বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। পুজো কমিটির কয়েক জনকে থানায় আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার রাতে রাজ‍্যে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দুর্গাসপ্তমীতে রবিবার সকালে একাধিক কর্মসূচি ছিল। দুর্ঘটনায় জেরে আপাতত তা স্থগিত করা হয়েছে বলে নিজেই তা জানিয়েছেন।

কী ভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তা নিয়ে ব‍্যখ‍্যা দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অডিয়ো বার্তায় জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত সহকারী পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে তিনি প্রাথমিক ভাবে যে তথ্য তিনি পেয়েছেন তা হল— একটি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের তরফে একটি ঘোষণা হয়। তারপর কয়েকটি হুইসেল বাজানো হয়। তার পরেই হুড়োহুড়ি লেগে যায়। তা থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে।

এক প্রত‍্যক্ষদর্শীর বক্তব‍্য, ঘটনা ঘটার আগে বৃষ্টি নামে। সেই সময় মন্ডপের ভিতরে প্রচুর লোক ছিল। তাঁরা বাইরে বের হতে পারছিলেন না। সেই সময় বাইরে থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক একটি ভিড় সেখানে আছড়ে পড়ে। তাঁরা পিছনের দিকে চাপ ধরে রাখতে না পেরে ভিতরে থাকা ভিড় ওপর এসে পড়ে। তিনি কোনও মতে বেঁচে ফিরলেও তাঁর মা প্রাণ হারান।

ঘটনার তদন্ত ভার এসটিএফকে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চোরবাগানের ঘটনাস্থলে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত মুখ‍্যমন্ত্রী কোনও চূড়ান্ত বিবৃতি দেবেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে ঘটনার তদন্ত নিরপেক্ষ ভাবেই হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

ঘটনার সময় থাকা কয়েক জন পুলিশের বিরুদ্ধে করছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে, মন্ডপের ভিতরে ও বাইরে প্রবেশ করার সময় ভিড় নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ ছিল না। ভিভিআইপি গেটে তাঁরা ছিলেন। এমনকী, ঘটনার সময় হাসপাতালের আহতদের নিয়ে যাওয়ার সময় কোনও সরকারি সাহায্য সময়মতো মেলেনি বলেও দাবি করেছে তাঁরা।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পুজো কমিটি, বেসরকারি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মী, কয়েক জন পুলিশকর্মীকে থানায় আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করতে নির্দেশ তিনি দিয়েছেন। পাশাপাশি মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দিয়েছেন। জখম হওয়ার দর্শনার্থীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। তাঁদের মধ্যে তিন জন পুরু, এক জন শিশু এবং ১৩ জন মহিলা রয়েছেন। ১১ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে ঘটনায় ৩৫ জন জখম হয়েছে। তবে কত জন মারা গিয়েছেন তার তালিকা প্রকাশ করেনি লালবাজার। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে একটি টোল ফ্রি হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে, যার নম্বর ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮। লালবাজারের তরফেও একটি নম্বর চালু করা হয়েছে। তা হল ০৩৩-২২১৪-১৩১০।

ঘটনাচক্রে শনিবার রাজ‍্যে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দুর্গাসপ্তমী উপলক্ষে রবিবার সকাল থেকে একাধিক দুর্গাপুজো মন্ডপে যাওয়ার কথা ছিল। বেলুড় রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন থেকে তিনি কর্মসূচি শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু এই ঘটনার পরে রবিবারের যাবতীয় কর্মসূচি তিনি বাতিল করেছেন। মৃতদের পরিবার এবং জখমদের সঙ্গে দেখা করতে হাসপাতালে যাবেন বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন।

চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্টের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে একাধিক মানুষের হতাহতের অত্যন্ত দুঃখজনক। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে প্রশাসন।”


Share