ISI Agent

পাক গুপ্তচর সন্দেহে দিল্লি থেকে গ্রেফতার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, রানা রউফের সঙ্গে যোগাযোগে ছিল, হেফাজতে নিল এসটিএফ

বুধবার দিল্লিতে যান কয়েক জন এসটিএফের আধিকারিক সেখান থেকেই প্রদীপ্তকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাকে দিনহাটা আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক আট দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

পাক গুপ্তচর সন্দেহে দিল্লি থেকে এক যুবককে গ্রেফতার করল রাজ‍্য পুলিশে এসটিএফ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২১ আগস্ট ২০২৬ ১১:৩২

পাক গুপ্তচর সন্দেহে দিল্লি থেকে এক যুবককে গ্রেফতার করল রাজ‍্য পুলিশে এসটিএফ। ওই যুবক পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। পাক গুপ্তচর সন্দেহে ধৃত রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলমের সঙ্গে যোগাযোগে ছিল। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করানো হয়েছে।

ধৃতের নাম প্রদীপ্ত বসু। এসটিএফ সূত্রের খবর, প্রদীপ্ত পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। গত ১৫ অগস্ট পাক গুপ্তচর সন্দেহে তিন জনকে গ্রেফতার করে রাজ‍্য পুলিশের এসটিএফ। এদের মধ্যে দু’জন কোচবিহারের এবং এক জন উত্তর দিনাজপুরের সাহেবগঞ্জের বাসিন্দা। এর আগে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থেকে রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলমকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই প্রদীপ্তের খোঁজ মেলে। বুধবার দিল্লিতে যান কয়েক জন এসটিএফের আধিকারিক সেখান থেকেই প্রদীপ্তকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাকে দিনহাটা আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক আট দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রদীপ্ত আদতে শিলিগুড়ির বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। তিনি টেকনিশিয়ানের কাজও পারতেন। তদন্তকারীদের দাবি, প্রদীপ্ত বসু বিদেশি মুদ্রা আদানপ্রদানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। হাওয়ালা নেটওয়ার্ক, জালনোট পাচারচক্রের সঙ্গেও যুক্ত ছিল। এমনকী, ভারতীয় সিম কার্ড বাংলাদেশ হয়ে পাকিস্তানে পাচার করা কাজও করত। এই চক্রের আরও কে বা কারা জড়িত রয়েছে তা জানার চেষ্টা করছে এসটিএফ। পাশাপাশি প্রদীপ্তের ভূমিকা কী ছিল তা-ও বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অন‍্য দিকে, এই মামলায় এসটিএফের আরেকটি দল উত্তর দিনাজপুর চেক ইসলামপুর থেকে আরেক যুবককে গ্রেফতার করে। ধৃতের নাম ফজলে রাব্বি সিদ্দিকি। স্থানীয় সূত্রের খবর, সিদ্দিকি তৃণমূলের ব্লক সভাপতি জাকির হোসেনের ভাই। এসটিএফ সূত্রের খবর, কোচবিহার থেকে যে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল তাদের সঙ্গে যোগাযোগে ছিল ফজলে রাব্বি সিদ্দিকি। এই চক্রে তার ভূমিকা কী সেটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

গত ১২ অগস্ট হাবড়া থেকে রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলমকে এসটিএফ গ্রেফতার করা হয়। বাংলাদেশে পালানোর আগেই পুলিশের জালে ধরা পড়ে পাকিস্তানের গুপ্তচর। তার কাছ থেকে পাকিস্তানের পাসপোর্ট উদ্ধার হয়েছে। ভুয়ো পরিচয়পত্র বানিয়ে কলকাতায় থাকত। এক পরে মহম্মদ ইজাজ আলি এবং ইমরান হোসেনকে তোপসিয়া থেকে গ্রেফতার করে। এরাই রানাকে ভুয়ো পরিচয়পত্র বানিয়ে দিয়েছিল। পরে হুগলির রিষড়া থেকে জাফর শাম ওরফে সানিকে গ্রেফতার করে। জাফর রানাকে হাওড়ার সালকিয়ায় কারখানায় কাজের ব‍্যবস্থা করে দিয়েছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

এদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তিন জনের খোঁজ পায় তদন্তকারীরা। কোচবিহার থেকে রশিদুল হক, শফিকুল এবং নাসিরুদ্দিন আলিকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে দু’জন বাংলাদেশের নাগরিক এবং একজন নেপালের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মূলে পৌঁছোতে চাইছে এসটিএফ।


Share