Arrest

বাইরে যাত্রিবাহী গাড়ি, ভিতরে গরু পাচারের ফাঁদ! সোনারপুরে গ্রেফতার চক্রের অন্যতম ‘মাথা’

এই ঘটনায় আসগার ফকির নামে এক ব্যক্তিকে সোমবার গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জুড়ে সক্রিয় গরু চুরি ও পাচারচক্রের অন্যতম মাথা আসগার।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:২৩

বাইরে থেকে দেখলে আর পাঁচটা সাধারণ যাত্রিবাহী গাড়ি। কিন্তু গাড়ির টেলগেট খুলতেই বদলে যায় ছবিটা। ভিতরে নেই কোনও সিট, তৈরি করা হয়েছে ফাঁকা জায়গা। পুলিশের চোখ এড়িয়ে সেই গাড়িতেই চলত গরু চুরি ও পাচার। সোনারপুরে গরু চুরির তদন্তে নেমে এমনই এক চক্রের হদিশ পেল পুলিশ।

সম্প্রতি সোনারপুরের ইস্কন গোশালা থেকে গরু চুরির অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার তদন্তে নেমেই আসগারের নাম উঠে আসে পুলিশের হাতে। এরপর তদন্ত এগিয়ে নিয়ে গিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে দাবি, জেরায় আসগার জানিয়েছে, পাচারের জন্য গাড়ির পিছনের আসন খুলে ফেলা হত। তার পর তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গায় গরু ঢোকানো হত। বাইরে থেকে গাড়িটি দেখে ভিতরে গরু রয়েছে, তা বোঝার উপায় ছিল না।

তদন্তকারীদের দাবি, আসগার দীর্ঘদিন ধরেই গরু চুরি ও পাচারের সঙ্গে যুক্ত। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় এই চক্রের সদস্যরা ছড়িয়ে রয়েছে। সুযোগ বুঝে বিভিন্ন জায়গা থেকে গরু চুরি করে নির্দিষ্ট গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া হত। পুলিশের আরও দাবি, অতীতে বাংলাদেশে গরু পাচারের সঙ্গেও যুক্ত ছিল আসগার। সীমান্ত পার করে পাচার কঠিন হয়ে ওঠার পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকাকেই পাচারের ‘রুট’ হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে সে।

আসগারের গ্রেফতারির পর এবার এই চক্রের বাকি সদস্যদের খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের অনুমান, এর পিছনে আরও বড় কোনও পাচারচক্র থাকতে পারে। আসগারকে জেরা করে সেই চক্রের সদস্য, চুরি করা গরু কোথায় নিয়ে যাওয়া হত এবং পাচারের কাজে কতগুলি গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে, সেই সব তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনার কোন কোন এলাকায় এই চক্র সক্রিয় ছিল, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।


Share