Abhishek Banarjee

ক‍্যামাক স্টিটের অফিসে ভাঙচুরের ঘটনায় হাওড়া থেকে গ্রেফতার ছ’জন, উদ্ধার করা হয়েছে চুরি যাওয়া সামগ্রী, বিবৃতি দিল লালবাজার

তদন্তের স্বার্থে তাঁদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল।

(বাঁ দিকে) কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:৩২

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক‍্যামাক স্ট্রিটের অফিসে ভাঙচুর এবং লুটের ঘটনায় ছ’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের সবাইকেই হাওড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অফিস থেকে লুট হওয়া বেশকিছু সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ধৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে স্পষ্ট করেনি পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল।

বৃহস্পতিবার ভোরে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই এঘটনার নেপথ‍্যে রয়েছে বলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ‍্যমে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিষেকের দাবি, তিনি শহরে নেই। বুধবার রাতে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। এই খবর জানার পরই ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা অফিসে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। অফিসের কর্মীদের ওপর হামলার চালায়। তাঁদের ফোন কেড়ে নেয়। অফিসের মধ্যে থাকা এয়ার পিউরিফায়ার, প্রিন্টার, টিভি-সহ একাধিক সামগ্রী লুট করে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

তাঁর এ-ও অভিযোগ ছিল, স্থানীয় থানা এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে মেল করে জানানোর পরেও তাঁরা কোনও পদক্ষেপ করেনি। দু’ঘন্টা পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোনোর অভিযোগ করেন। যদিও কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়ালের বক্তব্য, এমনটা হয়নি। ঘটনাটি সাড়ে ৪টে নাগাদ ঘটেছে। তাঁরা যখনই ই-মেল মারফত পুলিশকে জানিয়েছে, তখনই মামলা শুরু হয়ে গিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে ৬টা বাজার কিছু আগে পৌঁছেছে। অভিষেকের অফিসের তরফে ঠিক কখন ই-মেল করা হয়েছিল, তা নিয়ে কিছু জানানো হয়নি।

ভাঙচুর এবং লুট করার ঘটনায় ছ’জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ছ’জনকেই হাওড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের অতীতে কোনও অপরাধের ইতিহাস আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কুনাল আগরওয়াল। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে এই ছ’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। ১২ জনের মতো তাঁর অফিসে ঢুকেছিল। বাকিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ধৃতদের আদালতে হাজির করানো হয়ে। হেফাজতে নেওয়ার পরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান কুনাল আগরওয়াল।

ধৃতদের নাম, অভিনাশকুমার সাউ (শিবপুর), সুখদেব গুপ্ত (জগাছা), সুরজ সাউ (হাওড়া), ভম্বল মন্ডল (লিলুয়া, শঙ্কর রাও (হাওড়া), এবং রোহিত পোড়েল (হাওড়া)। ধৃতেরা একে অপরকে আগে থেকে চিনত কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অফিস থেকে লুট হওয়া বেশিরভাগ সামগ্রী গেটের সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি সমস্ত জিনিসপত্র ধৃতদের কাছ থেকে পাওয়া গিয়েছে। ধৃতদের কোনও রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল।

অন্য দিকে, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ। সংবাদমাধ্যমে ভেসে থাকার জন্য এই সব দাবি করা হচ্ছে। রাজনৈতিক ভাবে প্রাসঙ্গিক হওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।


Share